ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
ঢাকা: সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর জন্য শুকনা খাদ্য সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও শুরু হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা। অনেক এলাকায় ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের নতুন করে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে এখনো ব্যাপক পরিসরে রোপণ না হওয়ায় বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিকল্প বীজতলা তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (ব্রি) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বীজ উৎপাদন করে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করবে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণ উপযোগী ধানের জাত ব্যবহার করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে।
নগদ সহায়তা দেওয়া হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা প্যাকেজের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে খড়, ঘাস ও পশুখাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় দুর্গত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য শুকনা খাদ্য সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা ও বন্যার সময় গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খুরা রোগ প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সব গবাদিপশুকে দ্রুত টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুরের বাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের সহায়তায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
কৃষিতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষি, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র প্রস্তুত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।