ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী (ক্যাম্প-১৫) আশ্রয়শিবিরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
টানা বৃষ্টি চলতে থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল জানান, রাত দেড়টার দিকে জামতলী ক্যাম্প-১৫-এর ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি ঘর চাপা পড়ে।
এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। একই ঘটনায় পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ক্যাম্প-৭-এর ডি-৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে রশিদ উল্লাহর সাত বছর বয়সী ছেলে মো. একরামের মৃত্যু হয়।
এদিকে রাত সাড়ে তিনটার দিকে বালুখালী ক্যাম্প-১১-এর সি-১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), ভাই হারুনুর রশিদ (৩) এবং মোহাম্মদ রিহান (৫)।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের বনভূমিতে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এসব ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।