ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬ ১৫:৩২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় সদ্য নির্মিত রাম মন্দিরে কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে।

 

সোমবার, আটাশ জুন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাম মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে স্বাধীন সংস্থা শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমবারের মতো মন্দিরের আর্থিক তহবিলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।

 

এরপর উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান এবং মূল্যবান সামগ্রী গায়েব করা হয়েছে।

 

বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান উপহারসামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

ঘটনার জেরে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন ট্রাস্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ভক্ত এখন ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দেওয়া সোনার গহনা ও রুপার ইটের বর্তমান হিসাব জানতে চাইছেন।

অযোধ্যার বাসিন্দা ব্রজেশ কুমার বলেন, ট্রাস্টের কর্মকর্তারা মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং ধর্মীয় আবেগকে লুট করেছেন।

এমনকি উনিশশো বিরানব্বই সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলার অভিযুক্ত এবং পরে খালাস পাওয়া রাম মন্দির আন্দোলনের নেতা সন্তোষ দুবেও এই দুর্নীতির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কিছু ধূর্ত ও লোভী ব্যক্তি এখন রাম মন্দির পরিচালনা করছে। এই আর্থিক অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে, এই দুর্নীতির ঘটনা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার মূল্য এবার মোদি সরকারকে দিতে হতে পারে।

সূত্র:আল-জাজিরা


   আরও সংবাদ