ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কেপ ভার্দে-কুরাসাও পারলে বাংলাদেশ কেন পেছনে?

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার


কেপ ভার্দে-কুরাসাও পারলে বাংলাদেশ কেন পেছনে?

ফিফা বিশ্বকাপ এলেই এক জাদুকরি রূপ নেয় বাংলাদেশ। চার বছর পর পর পুরো দেশ যেন টুকরো টুকরো ‘ব্রাজিল’ কিংবা ‘আর্জেন্টিনায়’ রূপান্তর হয়।

মাইলের পর মাইল দীর্ঘ পতাকা, বিশালাকৃতির জার্সি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার জুনিয়র বা লিওনেল মেসিদের পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকে এই জনপদ। বিশ্ব গণমাধ্যম অবাক হয়ে দেখে এক ফুটবল-পাগল জাতির উন্মাদনা।

কিন্তু এই চোখধাঁধানো উৎসবের আলো যখন নিভে যায়, তখনই সামনে আসে এক নির্মম ও ধূসর বাস্তবতা।

 

বিশ্বমঞ্চ তো বহু দূরের আকাশকুসুম কল্পনা, বাংলাদেশ ফুটবল দল গত ২৩ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘সাফ’-এর শিরোপাই ঘরে তুলতে পারছে না।

২০০৩ সালের পর থেকে সাফের গণ্ডি পার হওয়াটাই লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য এক অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই চরম ব্যর্থতার খেসারত দিচ্ছে ঘরোয়া ফুটবল।

এক বুক হতাশা নিয়ে দর্শকরা স্টেডিয়ামবিমুখ হয়েছেন। অথচ এই মানুষগুলোই বিশ্বকাপের সময় নিজেদের আবেগ ঢেলে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না।

 

যদিও বাংলাদেশের ফুটবলের অতীত এমন ফ্যাকাশে ছিল না। একটা সময় ঢাকা লিগে আবাহনী-মোহামেডান মুখোমুখি হওয়া মানেই ছিল পুরো দেশ থমকে যাওয়া। চায়ের দোকান থেকে ঘরের ড্রয়িংরুম; সবখানে চলত কথার লড়াই। শুধু এই দুই জায়ান্টই নয়; ভিক্টোরিয়া, ওয়ান্ডার্স, ব্রাদার্স বা ওয়ারি ক্লাবের মতো দলগুলোর খেলা দেখতেও গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা থাকত না। টিকিটের জন্য চলত হাহাকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়  সত্তর ও আশির দশককে। স্বাধীনতার পর দেশের ফুটবল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঢাকার মাঠকেন্দ্রিক ফুটবল সংস্কৃতি এক ধরনের সামাজিক উন্মাদনায় রূপ নেয়। ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী ক্রীড়া চক্র-এর দ্বৈরথ ছিল দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়া আকর্ষণ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিন ঢাকার স্টেডিয়ামে দর্শকসংখ্যা ৫০-৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেত, আর মাঠের বাইরে হাজারো মানুষ রেডিওতে ধারাভাষ্য শুনতেন।

সে সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে উত্থান ঘটে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের। তাদের মধ্যে ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, মোনেম মুন্না, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও বাদল রায়। বাংলাদেশ জাতীয় দলও তখন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে ছিল। আশির দশকে এশিয়ান গেমস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ দেশের ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

“কেপ ভার্দে বা কুরাসাও একদম মন জয় করার মতো ফুটবল খেলছে। ছোট দেশ হলেও নিজেদের অবকাঠামোর উন্নয়ন আর ফুটবলের প্রতি নিষ্ঠা দিয়ে তারা ওপরে উঠেছে। আর আমাদের বাধার মূলে রয়েছে তৃণমূলের স্থবিরতা। জেলা পর্যায়ে এখন লিগই হয় না। ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, তার বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি সদিচ্ছা।”
শেখ মোহাম্মদ আসলাম
সাবেক ফুটবলার

আজ সেই জৌলুস পুরোপুরি বিলীন। বর্তমানে বসুন্ধরা কিংসের মতো কর্পোরেট ক্লাব কিছুটা পেশাদারিত্ব দেখালেও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। 

দেশের ফুটবলের এই করুণ দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ ঝরে পড়ল দেশের কিংবদন্তি সাবেক স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলামের কণ্ঠে। তিনি বাংলানিউজকে বলছিলেন, ‘আগে দেশের খেলা মানুষকে আনন্দ দিত, এখন দিতে পারছে না। দেশের মানুষকে কি ফুটবল-বিমুখ বলবেন? না, তারা ভালো খেলা দেখতে পারছে না বলেই মাঠে আসছে না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের খেলার মান বাড়ছে না। অথচ দেশের মানুষই কিন্তু রাত জেগে বিদেশের লিগ দেখছে। মাঠে ভালো খেলা ফিরলে এই ফুটবল-পাগল বাঙালি আবারও গ্যালারিতে ঝড় তুলবে। জেলা পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে আনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সবচাইতে জরুরি সততার সঙ্গে চেষ্টা—তবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে’

কেপ ভার্দে-কুরাসাওয়ের চমক, বাংলাদেশে আক্ষেপ
বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে কিংবা কুরাসাওয়ের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো যেভাবে পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে চমক দেখাচ্ছে, তা চোখ খুলে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বের। এর মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ভাসমান দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশের অনেক পরে ১৯৭৫ সালে। চার হাজার বর্গকিলোমিটারের দেশটিতে জনসংখ্যা ছয় লাখের মতো। অন্যদিকে কুরাসাও এখনো স্বাধীনই হয়নি। ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের  ডাচ রাজত্বের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির জনসংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি।

ওই ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দ্বীপ দুটির তুলনায় এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশের শক্তি প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যা। এর মধ্যে সবশেষ গত ১১ জুন প্রকাশিত ফিফা র‌্যাংকিংয়ে কেপ ভার্দের অবস্থান ৬৪, কুরাসাওয়ের অবস্থান ৮১, আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিসংখ্যানমূলক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারের হিসাব অনুসারে, কেপভার্দের বার্ষিক জিডিপি (এক এক বছরে উৎপাদিত সব চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্য) ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, কুরাসাওয়ের বার্ষিক জিডিপি ৩ দশমিক ২৮ বিলিয়ন; আর বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপি ৫১০.৭ বিলিয়ন ডলার আনুমানিক।

আয়তন, জনসংখ্যা, অর্থনীতির দিক থেকে এত যোজন যোজন এগিয়ে থেকেও কেন সেখানে যেতে পারলো না বাংলাদেশ? শেখ মোহাম্মদ এর পেছনে এই ছোট দেশগুলোর নিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেন।

জেলা পর্যায় থেকে উঠে এসে কিংবদন্তি হওয়া আসলাম বলেন, ‘কেপ ভার্দে বা কুরাসাও একদম মন জয় করার মতো ফুটবল খেলছে। ছোট দেশ হলেও নিজেদের অবকাঠামোর উন্নয়ন আর ফুটবলের প্রতি নিষ্ঠা দিয়ে তারা ওপরে উঠেছে। আর আমাদের বাধার মূলে রয়েছে তৃণমূলের স্থবিরতা। জেলা পর্যায়ে এখন লিগই হয় না। ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, তার বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি সদিচ্ছা।’

সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার এই অভাবের পেছনে দেশের ফুটবলের ভেতরের রাজনীতি, ক্ষমতার লড়াই এবং বিশৃঙ্খল মানসিকতার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন ফুটবল বিশ্লেষক আহমেদ শায়েক। মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখানে পদের লড়াই এবং ব্যক্তিগত ব্যবসাই কর্তাদের বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলে কর্তারা ফুটবলটাকে নিয়ে সবার পরে চিন্তা করেন। খেলার মধ্যে যখন পলিটিকস বা ব্যবসা ঢুকে পড়ে, তখন তা স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। আমাদের সবার আগে ভাবা উচিত কীভাবে মাঠের ৯০ মিনিট সুন্দর ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করা যায়। কিন্তু আমরা মাঠ, প্লেয়ার বা ক্লাবের চেয়ে পদ-পদবি এবং নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশি ব্যস্ত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাইরের দেশের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য এটাই, তারা ফুটবলকে আগে রাখে, তারপর ব্যবসা বা পলিটিকস আসে। আর আমাদের দেশে আগে পলিটিকস ও ব্যবসা আসে, ফুটবল আসে সবার শেষে। যার কারণে আমাদের স্টেডিয়াম বা মাঠ ঠিক হয় না, লিগ সময়ে হয় না, আর হলেও ক্লাবে ক্লাবে সংঘাত লেগে থাকে। ফেডারেশনও ঠিকভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে না। এমন বিশৃঙ্খল ফেডারেশন ও মানসিকতা নিয়ে ফুটবলের উন্নতি অসম্ভব।’

আহমেদ শায়েকের মতে, ভারত কিছু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জোরে কিছুটা সাফল্য পেলেও সামগ্রিক স্ট্রাকচারের অভাবে সাউথ এশিয়ার ফুটবল এগোচ্ছে না। বাংলাদেশেও হামজা চৌধুরী বা সমিত সোমদের কারণে সাময়িক জোয়ার এলেও টেকসই কাঠামোর অভাবে তা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কাই বেশি।

“সারা বিশ্বের ফুটবল এগিয়ে গেছে ক্লাব ফুটবলকে উন্নত করে। আমাদের দেশে ক্লাবগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল ঠিকই গড়ছে, কিন্তু নিয়ম মেনে যুব উন্নয়ন বা পাইপলাইন তৈরিতে কাজ করছে না। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, ফুটবল ফেডারেশন কখনোই ক্লাবগুলোকে এই সঠিক নিয়মের মধ্যে আনতে পারেনি। জেলা স্তরে ফুটবল হারিয়ে গেছে, ফলে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসার পাইপলাইনটা জ্যাম হয়ে গেছে।”
সুদিপ্ত আনন্দ
সিনিয়র সাংবাদিক

ঘোর অমাবস্যার মাঝে সম্প্রতি দেশের ফুটবলে কিছুটা আশার আলো ছড়াতে শুরু করেছে প্রবাসী ফুটবলারদের আগমন। হামজা চৌধুরী, সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম কিংবা জায়ানের মতো ইউরোপীয় ফুটবলে বেড়ে ওঠা প্রতিভারা যখন বাংলাদেশ দলে যোগ দিচ্ছেন বা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন, তখন দর্শকদের মাঝে মাঠে ফেরার একটা নতুন তাগিদ দেখা যাচ্ছে। তবে এই জোয়ারকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে দলগত সাফল্য অপরিহার্য। শুধু কয়েকজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে সাময়িক আলোচনা তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু ট্রফি না এলে এই দর্শক ধরে রাখা যাবে না।

যুব উন্নয়ন বা পাইপলাইন তৈরির কাজ হচ্ছে না
ফুটবলের এমন পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংকট, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ফুটবলীয় দর্শনের অভাব নিয়ে কথা বলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক সুদিপ্ত আনন্দ। বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে খেলতে পারে না, তার পেছনে ভৌগোলিক ও জিনগত কারণ উল্লেখ করে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাউথ এশিয়া থেকে কোনো দলই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যেতে পারেনি। ১৯৫০ সালে ভারত একবার সুযোগ পেলেও পরে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। জেনেটিক্যালি আমাদের দৈহিক গঠন ও ফিটনেসের দিক থেকে এই অঞ্চলের মানুষ ফুটবলে কিছুটা পিছিয়ে আছে, এটা মানতেই হবে। তবে এর চেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতার অভাব। আমরা বড় স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবায়নের সঠিক পথ খুঁজি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা বিশ্বের ফুটবল এগিয়ে গেছে ক্লাব ফুটবলকে উন্নত করে। আমাদের দেশে ক্লাবগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল ঠিকই গড়ছে, কিন্তু নিয়ম মেনে যুব উন্নয়ন বা পাইপলাইন তৈরিতে কাজ করছে না। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, ফুটবল ফেডারেশন কখনোই ক্লাবগুলোকে এই সঠিক নিয়মের মধ্যে আনতে পারেনি। জেলা স্তরে ফুটবল হারিয়ে গেছে, ফলে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসার পাইপলাইনটা জ্যাম হয়ে গেছে।’

ফিফা বিশ্বকাপ এখন ৪৮ দলে উন্নীত হওয়ায় কেপ ভার্দে বা কুরাসাওয়ের মতো দলগুলো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখাটা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। বাস্তবতা হলো, আমাদের আগে ঘরের মাঠের বৃত্ত ভাঙতে হবে। সুদিপ্ত আনন্দের ভাষায়, ‘আগে তো সাউথ এশিয়া (সাফ), তারপর এশিয়া, আর সবশেষে আমরা বিশ্বকাপের কথা ভাবতে পারি।’

বাঙালি জাতি ফুটবল-পাগল, কিন্তু তাদের এই আবেগকে পুঁজি করে বছরের পর বছর ধরে চলা কাঠামোগত অবহেলা আর পরিকল্পনাহীনতা দেশের ফুটবলকে অন্ধকূপের দিকে ঠেলে দিয়েছে। হামজা চৌধুরী বা প্রবাসীদের আগমন দেশের ফুটবলে যে মৃদু বাতাসের সৃষ্টি করেছে, তাকে ঝড়ে রূপান্তর করতে হলে শুধু ওপরের স্তরে জোড়াতালি দিলে হবে না।

“দেশে নিয়মিত বিভিন্ন লিগ আয়োজন হচ্ছে। টুর্নামেন্ট থেকে সাফল্যও আসছে। এছাড়া বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের আরও পরিণত করার জন্য লিগে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের খেলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও সেখানে কিছু ক্লাব আপত্তি করেছে। তবে ফুটবলের স্বার্থে, ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে এটা করা হয়েছে।”
ইমরুল হাসান
সহ-সভাপতি, বাফুফে

বিশ্লেষকদের মতে, বাফুফে ও ক্লাবগুলোকে একযোগে সততার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে। তবেই হয়তো আগামী এক-দেড় দশক পরে লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড়তে দেখা যাবে; অন্যথায় প্রতি চার বছর পর পর অন্যের পতাকায় রঙ মিলিয়ে গলা ফাটানো ছাড়া এই ফুটবল-পাগল জনপদের আর কোনো গতি থাকবে না।

‘বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা তুলে আনার চেষ্টায় বাফুফে’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি এবং প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সবার আগে আমাদের মানসিকতার উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের সবকিছুর আগে ফুটবলটা নিয়ে ভাবতে হবে। যদি আমরা ফুটবলকে সবার উপরে রেখে এগোতে পারি তাহলেই ফুটবলে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি।

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা তুলে আনার জন্য বাফুফে চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে বাফুফে। সেখান থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান আছে। 

ইমরুল হাসান বলেন, দেশে নিয়মিত বিভিন্ন লিগ আয়োজন হচ্ছে। টুর্নামেন্ট থেকে সাফল্যও আসছে। এছাড়া বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের আরও পরিণত করার জন্য লিগে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের খেলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও সেখানে কিছু ক্লাব আপত্তি করেছে। তবে ফুটবলের স্বার্থে, ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে এটা করা হয়েছে।

অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আর্থিক দিকও দেখতে হবে। চাইলে রাতারাতি সব বদলে ফেলা যায় না, সব সুযোগ-সুবিধা আনা যায় না। তবে আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করছি। সকলের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘ফুটবলের উন্নয়নের’ কথা চিন্তা করে এগিয়ে আসলে আরও দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব।


   আরও সংবাদ