ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জার্মানিতে চুরির রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার


জার্মানিতে চুরির রেকর্ড

জার্মানির সুপার শপ ও খুচরা বাজারে চুরির ঘটনা নতুন রেকর্ড গড়েছে। দেশটিতে ২০২৫ সালে বিভিন্ন দোকান থেকে ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জার্মানির বাণিজ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই’র সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষাটি প্রকাশ করেছে টাগেসচাও।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই বলছে, শুধু ক্রেতারাই নয়, দোকানের কর্মচারী, ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যরাও এসব চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

সমীক্ষা অনুযায়ী, চুরির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ক্রেতারা।

সব ধরনের দোকানে চুরির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংঘটিত হয়েছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মাধ্যমে। এই সংঘবদ্ধ চোররা ক্রেতার বেশে মূলত মদ, প্রসাধনী সামগ্রী, ব্র্যান্ডের সুগন্ধি ও শেভিং ব্লেড চুরি করে।

পরে চোররা এসব পণ্য বাইরে বিক্রি করে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই জানায়, গত বছর খুচরা ব্যবসার কর্মচারীদের চুরির কারণে প্রায় ৯১ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। আর ডেলিভারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ইউরো।

শুধু যে চুরি তা নয়, বিভিন্ন ব্যবস্থাগত ত্রুটির কারণেও ব্যবসায় ২০২৫ সালে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ইএইচআই বলছে, সময়মতো মূল্যছাড়ের ট্যাগ না সরানো, হিসাব ও তথ্য রেজিস্ট্রেশনে ভুল এবং ভুল পণ্য সরবরাহের বিলের কারণে প্রায় ৭৮ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, স্বয়ংক্রিয় বা সেলফ-চেকআউট কাউন্টার এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কাউন্টারে ক্রেতারা নিজেরাই পণ্য স্ক্যান করেন এবং কার্ডে বিল পরিশোধ করেন। এসব মেশিনে অনেক সময় ক্রেতারা কিছু পণ্য স্ক্যান করেন না, আবার দামি পণ্যের পরিবর্তে কম দামের পণ্য স্ক্যান করেন। এভাবে চোর ও প্রতারকরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

ইএইচআইর প্রতিবেদন মতে, ২১ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রে চুরির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৯ কোটি ইউরো মূল্যের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জার্মান সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জার্মানিতে চুরির ঘটনাও বাড়ছে। সমীক্ষার লেখক ফ্রাঙ্ক হর্স্ট বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ভোক্তা ও কর্মচারী আর্থিক চাপে রয়েছেন, যার কারণে চুরি বাড়ছে।

তবে জার্মান খুচরা ব্যবসায়ী সমিতি (এইচডিই) জানিয়েছে, দোকানে সংঘটিত প্রায় ৯৮ শতাংশ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অভিযোগও করেন না। প্রকৃত চুরির সংখ্যা আরও অনেক বেশি।


   আরও সংবাদ