আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬ ০৯:০২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে পেন্টাগন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের ডিজিটাল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষ্যে জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় ২,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
মিসিসিপির উত্তর জেলা আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন এনএএসিপি বনাম মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর একটি মামলার শুনানিতে স্ট্যানলি এ তথ্য জানান।
ক্যামেরন স্ট্যানলি বলেন, পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস’-এর অংশ হিসেবে এক্সএআই-এর ‘গ্রক গভ মডেল’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সামরিক প্রস্তুতির মতো জাতীয় নিরাপত্তা মিশনে সহায়তা করে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় ১৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় এই প্রযুক্তির সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা পরিবেশগত একটি মামলা থেকে। ২৬ এপ্রিল এনএএসিপি অভিযোগ করে, টেনেসির মেমফিসে অবস্থিত ‘কোলোসাস ২’ সুপারকম্পিউটার ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহে মিথেন গ্যাস টারবাইন ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট দূষণ স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সংস্থাটি ওই টারবাইন বন্ধ ও জরিমানার দাবি জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন বিচার বিভাগ এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। পেন্টাগন কর্মকর্তার যুক্তি, সাউথ হ্যাভেনের এই ডেটা সেন্টারটি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম ব্যাহত হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মামলাটি খারিজ করার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। কোনো বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ আইনের দোহাই দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে—তা মার্কিন সরকার মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিচার বিভাগ।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই