ঢাকা, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ভিসা জটিলতার মধ্যেই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৮ জুন, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার


ভিসা জটিলতার মধ্যেই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিসা জটিলতার মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ইরান দলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা না দেওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে পৌঁছেছে ইরান দল। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর সীমান্তবর্তী মেক্সিকান শহরটিতে স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু পর তাদের বহনকারী ফ্লাইট অবতরণ করে।

তুরস্ক থেকে রাতভর ফ্লাইটে সেখানে যায় দলটি। গত তিন সপ্তাহ তুরস্কে অনুশীলন করেছে ইরান।

 

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই শেষ মুহূর্তে নিজেদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার ইরানের সব খেলোয়াড়কে ভিসা দেয়।

সেটিও তাদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে। তবে ফেডারেশনের দাবি, সাপোর্ট স্টাফের কয়েকজন সদস্য ভিসা পাননি, যাদের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও’ আছেন।

 

আগামী বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। তার কয়েক দিন আগেই ইরান দলকে ঘিরে এই ভিসা বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

টুর্নামেন্টজুড়ে ইরান দল মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে। যদিও গ্রুপ পর্বে তাদের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে গেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দলের আতিথ্য দেবে, যার দেশের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে।

তুরস্কের আনতালিয়ায় প্রায় তিন সপ্তাহের ক্যাম্প করেছে ইরান। সেই সময়েই তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভিসার জন্য আবেদন করে দলটি। মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগের রাতে খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পান বলে শুক্রবার রাতে এক্সে জানান তুরস্কে নিযুক্ত ওয়াশিংটনের দূত টম বারাক।

তবে তুরস্কে ইরানের দূতাবাস জানায়, প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫ জন স্টাফকে ভিসা দেওয়া হয়নি। শনিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে দূতাবাস লিখেছে, ‘ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণকে আপনারা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।’

একই পোস্টে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিয়ম ভঙ্গের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

উত্তেজনা আরও বাড়ে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে। শনিবার তিনি জানান, ভিসার শর্ত অনুযায়ী ইরান দলকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেদিনই দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

ইরানের দূত আবুলফজল পাসানদিদেহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সকালে প্রবেশ করতে পারব এবং একই দিন আমাদের চলে যেতে হবে।’

তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে ইরান দলের মুখপাত্র আমির মাহদি আলাভির আগের মন্তব্যের অমিল রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আলাভি বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের জন্য যে ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা। প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে জাতীয় দল ম্যাচ ভেন্যুতে পৌঁছাবে এবং পরের ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে সেখানে যাবে।’

ফিফার বিশ্বকাপ সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলের কোচকে ম্যাচের আগের দিন ম্যাচ ভেন্যুতে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়। ফলে ইরান দল সত্যিই ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে সেদিনই বেরিয়ে যেতে বাধ্য হলে, তা ফিফার নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘খেলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ রূপ’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজও ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফসহ, দেওয়া হয়েছে।’

যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা ইরান দলকে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে মিথ্যা অজুহাতে সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকানোর সুযোগ দেব না।’

এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, সমস্যা ইরানের খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়; বরং ‘তাদের সঙ্গে যাদের আনতে চাওয়া হতে পারে’, তাদের নিয়ে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাদের কারও কারও সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সম্পর্ক থাকতে পারে। এই বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের কালো তালিকায় রেখেছে।

বিশ্বকাপে ইরান খেলবে গ্রুপ ‘জি’-তে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে ২১ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান।


   আরও সংবাদ