ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢাকামুখী কর্মজীবীরা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬ ১৭:০৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


ঢাকামুখী কর্মজীবীরা

ঈদের আনন্দ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানো কয়েকটি দিনের অবসান ঘটিয়ে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ।

 

টানা ছুটির শেষ প্রান্তে রোববার (৩১ মে) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য, হাতে ব্যাগ, কাঁধে লাগেজ আর চোখে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক ট্রেন এসে থামে কমলাপুর স্টেশনে।

 

 

প্রতিটি ট্রেন থেকেই নেমে আসেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নানা পেশার যাত্রীরা। ঈদের আগে বাড়ি ফেরার সময় যে চরম ভোগান্তি দেখা গিয়েছিল, ফিরতি যাত্রায় তার তুলনায় অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ যাত্রী।

 

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নেমেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন সিরাজগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী মোহাম্মদ রাশেদ। 

 

আগামী সোমবার (১ এপ্রিল) অফিসে যোগ দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শেষ দিনের ভিড় এড়াতে একদিন আগেই চলে এসেছি।

 

 

যাওয়ার সময় যে চাপ ছিল, এবার তেমন কিছুই হয়নি। আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম, তাই বসেই আসতে পেরেছি। স্বস্তির মধ্যেও কিছুটা ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন ট্রেনে নির্ধারিত আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। বিমানবন্দর স্টেশনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী নেমে গেলেও কমলাপুরে পৌঁছানো প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী। ঈদের আগে ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনের যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, ফিরতি যাত্রায় তা আর চোখে পড়েনি।

 

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ‘এগারোসিন্ধু’ ট্রেনের যাত্রী নাসিমা আক্তার জানান, ট্রেনে ভিড় থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল। তিনি বলেন, দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ এসেছে, কিন্তু যাত্রা খুব কষ্টকর মনে হয়নি। নিরাপদে ফিরতে পেরেছি, এটাই বড় বিষয়।

 

জামালপুর থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রী সোহেল মিয়া বলেন, ভোরে ট্রেনে উঠেছি। দীর্ঘ পথ হলেও এবার যাত্রা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ঈদের আগের সেই ধাক্কাধাক্কির তুলনায় পরিবেশ অনেক ভালো ছিল।

 

দুপুরে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রেনগুলোতেও উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যাত্রীরা জানান, আসন পূর্ণ হওয়ার পরও অনেককে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই যাত্রা শেষ করেছেন স্বস্তির মধ্য দিয়ে।

 

 সব অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। নোয়াখালী থেকে ফেরা এক নারী যাত্রী যাত্রাপথে তার গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঈদযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এমন ঘটনা কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

এ ছাড়া কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে আসায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম রুটের কিছু ট্রেন সময়সূচি মানতে পারেনি। ফলে কিছু যাত্রীকে অতিরিক্ত সময় ট্রেনেই কাটাতে হয়েছে।

 

 সামগ্রিক চিত্রে এবারের ফিরতি যাত্রা অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

 

যাত্রীদের জানান, আগাম টিকিট বিক্রি, অতিরিক্ত নজরদারি এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে ঈদের আগে দেখা দেওয়া চরম ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ফেরার পথে হয়নি।

 

 এদিকে একদিকে যখন কর্মস্থলের টানে মানুষ রাজধানীতে ফিরছেন, অন্যদিকে অনেককে আবার গ্রামের পথে যাত্রা করতেও দেখা গেছে।

 

রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঈদের পরও যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের বেশিরভাগই আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে স্টেশন এলাকায় যাত্রী চলাচল এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।


   আরও সংবাদ