ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্ম মানুষকে কল্যাণের পথ দেখায়, হিংসার জন্য ধর্ম নয়। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভেদ থাকবে না।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে যে 'ভিশন-২০৩০' দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি একটি 'রেইনবো স্টেট' বা রংধনু রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই আদর্শকে পাথেয় করেই আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি।
শুক্রবার (১ মে) রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ফেডারেশন আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীতে এসেছিলেন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব অসত্যকে দূর করতে।
তার সেই শান্তির বাণী আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা, যুদ্ধ আর মারণাস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতার মাঝে বুদ্ধের এই অহিংসার বাণী অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
হিংসা ও যুদ্ধকে একবাক্যে ‘না’ বলতে না পারলে মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, প্রতিবার বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে গুলশানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। আজ এই অনুষ্ঠানে এসে বারবার উনার কথা মনে পড়ছে। রাজনীতিতে উনার মতো মমতাময়ী এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিত্ব খুব কম দেখা যায়। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশে যার যার ধর্ম সে পালন করবে, কিন্তু আমাদের পরিচয় হবে এক আমরা সবাই বাংলাদেশি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য একশ্রেণির মানুষ ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। অথচ কোনো ধর্মই হত্যা বা হিংসা সমর্থন করে না। আমরা আধুনিক ও শিক্ষিত সমাজ হিসেবে এসব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে চাই। বিশেষ করে পাহাড়ে ও সমতলে যারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আছেন, তাদের শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ আমাকে মুগ্ধ করে।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমাদের পাশে পণ্ডিত ব্যক্তিরা আছেন, মন্ত্রী মহোদয়রা আছেন। আমরা সবাই মিলে এই বিহারের সমস্যাগুলো সমাধান করে একে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং বৌদ্ধ ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।