ঢাকা, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

গীর্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুট

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬ ১৭:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


 গীর্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুট

রাজধানীর বারিধারা এলাকায় গীর্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুটের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন, আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু, মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান এবং আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির। রাজধানী ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে ভাটারা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে মুখোশধারী দুই দুষ্কৃতকারী গীর্জার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।

তারা প্রথমে স্টাফদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে গীর্জার পরিচালকের অফিস কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাদার সুবাস পুলক গমেজের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

এরপর আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে তারা। পরে আরও একজন সহযোগীর সহায়তায় দেয়াল টপকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়।

 

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করে। ফুটেজে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করা হয়। সেই সূত্র ধরে কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য যাচাই করে আক্তার হোসেন মনাকে শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত রিকশা ও লুট হওয়া নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষীপুরের রামগতির চরাঞ্চল থেকে মোহাম্মদ নিজামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। 

এরপর মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতনকে খিলক্ষেতের আমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিসি এম তানভীর আহমেদ জানান, আবুল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। নিজামের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি দস্যুতা মামলা এবং মনিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তাররা মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব আসক্তির অর্থ জোগাতে তারা চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


   আরও সংবাদ