ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত যুবক আকাশ মোল্লাকে (২৮) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান জানান, অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়।
তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ কোদাল নিয়ে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।