আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে যখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো-যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালি তাদের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করছে-সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটছে স্পেন।
স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
এর ফলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে সরকার এই উদ্যোগকে ন্যায্য পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের নিয়ে একটি পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে পেদ্রো সানচেজের সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়া হবে এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে। এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত পরিচ্ছন্ন রেকর্ড দেখাতে হবে।
আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।
সরকারের দাবি, এই অভিবাসীরাই ইতোমধ্যে স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।
তবে ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা