ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

প্রতিদিন কতটি জাহাজ চলবে জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার


প্রতিদিন কতটি জাহাজ চলবে জানাল ইরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

 

এর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত এই প্রণালি দিয়ে। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। তাই ইরানের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে চলতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

 

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী প্রণালিটি আবার চালু করা হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে তেহরান। নতুন নিয়মে প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হবে।

জানা গেছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য এক ডলার ফি নির্ধারণ করেছে ইরান, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়েছে সম্প্রতি, যখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান সাময়িকভাবে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের পাশাপাশি সার ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহেও এই সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে নিউজ


   আরও সংবাদ