ঢাকা, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সংস্কার নয়, পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি বিএনপির

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


সংস্কার নয়, পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি বিএনপির

জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে গৃহীত হচ্ছে না। তাই অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা সংসদ কর্তৃক স্বীকৃতি পাচ্ছে না। যে কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি।

তবে সরকারি দল বিএনপি মনে করছে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে ‍জুলাই সনদে একমত হওয়া মূল সংস্কারগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারবে, এজন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো প্রয়োজন নাই।

আইন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে সংশোধনী আনয়ন করলে তা পদ্ধতিগতভাবে সাংবিধানিক হবে। ভবিষ্যতে আইনগতভাবে প্রশ্নও উত্থাপনেরও খুব একটা সুযোগ থাকবে না।

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে।

সেই সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যার বিচার হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডে রায় দিয়েছেন।

 

সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী শাসন কাঠামোতে অধিকতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপারিশের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

সেসব কমিশনের রিপোর্ট দাখিলের পর ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। সেই ঐকমত্য কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ১৬৬টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে ত্রিশটির বেশি প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়। সেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২৫টির বেশি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে।

 

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে নির্বাচনের তফসিলের আগেই বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দাবি করে আসছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল।

শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। গণভোটের মাধ্যমে সেই আদেশ বাস্তবায়ন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে জামায়াতসহ ১১টি দল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একদিনে করার ব্যাপারে সম্মত হয় বিএনপি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

গণভোটে শতকরা ৬৮ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের ওপর ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করে। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের জন্য সরকার প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি সেই শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যতক্ষণ জুলাই সনদ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয়ে সংবিধানের অংশ না হওয়া পর্যন্ত তারা এমন কোনো শপথ গ্রহণ করবেন না। এটাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে একই দিনে জামায়াত ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা জাতীয় সংসদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৭ ধারায় জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়। সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (constituent power) প্রয়োগ করতে পারবে বলে সনদে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী ৭ ধারা অনুযায়ী পরিষদের প্রথম অধিবেশ শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করার মাধ্যমে এর বিলুপ্তি ঘটবে।

আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের ফলের গেজেট প্রকাশের পর  অধিবেশন ডাকার সময় ছিল ত্রিশ দিন। সে অনুযায়ী গত ১৫ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকা হয়নি। এর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে একটি মুলতবি প্রস্তাব আনেন। গত ৩১ মার্চ সেই প্রস্তাবের ওপর দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা।

বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ও বাক্য আমরা ধারণ করি। তবে আমরা সেই সংস্কার চাই যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে। জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি এর (জুলাই সনদ) বিরোধিতা করেনি; বরং কিছু ভিন্নমত দিয়েছে; যা সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তবে জুলাই সনদ আংশিক নয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দল জামায়াত ও তাদের জোট সঙ্গী এনসিপি। জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বলেন, আমরা সংবিধানের সংশোধন চাই না সংস্কার চাই। আপনারা বলছেন সংবিধানে গণভোট নেই। আমাদের প্রশ্ন, এই দলটি যার হাতে জন্ম তার হাতেই বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন কি সংবিধানে গণভোট নিয়ে কোনো সমস্যা হয়েছে? তখন যদি সেটি জায়েজ হয়ে থাকে তবে এখন নাজায়েজ হয় কীভাবে। জনগণের প্রয়োজনে গণভোট হচ্ছে কনসটিটিউশনের ওপরে সুপ্রিম অথোরিটি রায়। জনগণের সুপ্রিম অভিপ্রায় হচ্ছে চূড়ান্ত সংবিধান।

এ বিষয়ে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তিনটা গণভোটের ফল বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয়েছে। চতুর্থ গণভোটে যেখানে বিভিন্ন দল ছিল মত ছিল, সবাই যখন এক, শুধু তাই নয় বিএনপির প্রতিনিধিরা বলেছেন সংবিধানের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটের প্রস্তাব দিচ্ছি। প্রস্তাব দিলেন গণভোটের, নির্বাচনের পরে এসে আপনাদের মতামত রাতারাতি বদলে গেল। আপনারাই বলেছিলেন সবাই মিলে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ মিলে ঝিলে বাংলাদেশ। কিন্তু কোথায় আজ সেই বাংলাদেশ? ইতোমধ্যেই সবাই মিলে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারটি আউট হয়ে গেছে।

দুই পক্ষের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, সরকার বিদ্যমান পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন করতে চায়। আর বিরোধী দল চাইছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে। তাই উভয়পক্ষের মধ্যে সংস্কার নয়, বরং সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে কী আছে সংবিধানে?
বিদ্যমান সংবিধানে সংশোধনীর বিধান আছে দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে। যখানে বলা হয়েছে,
এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও—
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, (অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ণ শিনোনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;

(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত সাংবিধানিক নিয়মেই। বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন হবে তা এই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে। সংস্কার পরিষদ যেহেতু সংবিধান সম্মত নয়, তাই ১৪২ অনুচ্ছেদের আলোকে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনই তুলনামূলকভাবে আইনগত পন্থা। আর জাতীয় সংসদ সংশোধনী আসলে সাংবিধানিকভাবে ও আইনত তা আরও বেশি শক্তিশালী ও স্থায়িত্ব পাবে। তাদের মতে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ এবং সরকারি দল হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোকে একত্রিত করে তার আলোকে জাতীয় সংসদেই সংবিধানের প্রয়োজনীং সংশোধনী বা সংস্কার আনা সম্ভব।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সংসদ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তারা এ ব্যাপারে একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন এ নিয়ে একটা বিতর্ক ছিল। সেখানে তারা একটা পদ্ধতি বের করে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এক্ষেত্রেও সংসদ চাইলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের জন্য একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ না হলেও সংস্কার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, সংস্কারের পথ এখনও খোলা আছে এবং তা সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই সম্ভব। কারণ কেউই তো অস্বীকার করছে না যে, সংস্কার প্রয়োজন নাই। প্রয়োজনে সংসদ আলাপ আলোচনা করে সংস্কারের প্রস্তাব পাশের পর আবার রেফারেন্ডাম (গণভোট) দিতে পারে।

আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকেই ভিত্তিহীন বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ জারি করা হয়েছে, সেই আদেশেরই তো কোনো আইনি ভিত্তি নাই। কারণ রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারি করার কোনো ক্ষমতাই নাই। ইতোমধ্যেই আদেশটি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছেন।

মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছে সেটি আইনত ও সাংবিধানিকভাবে যথাযথ। তবে বিএনপির যেহেতু এই সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন রয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়গুলোকে সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করে সংবিধানে আনতে পারে। সেজন্য আগে সংসদে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয় এসেছে যেমন দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ সংসদের মাধ্যমেই সংবিধানে আনা সম্ভব। তার আগে সংসদে বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে যতোটুকু সম্ভব সংসদ বাস্তবায়ন করতে পারে। সংসদ ইচ্ছা করলে মৌলিক কিছু বিষয় ভবিষ্যতে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান সংবিধানে যুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এসব পরিবর্তনে নতুন করে আর গণভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

রাজনীতি বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, যেহেতু ৯৩ অনুচ্ছেদে বলাই আছে সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা রহিত হয়ে যায় এমন কোনো বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারবেন না। তাই গণভোট অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনমত যাচাই ও সংবিধান সংশোধনের জন্য আইনসভার উপর বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ছিল কিনা, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর এখন সংসদ যেভাবে গ্রহণ করবে সেভাবেই হবে।


   আরও সংবাদ