আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান খুব দ্রুত শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার ভাষায়, আর মাত্র ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ ওয়াশিংটন তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।
সোমবার (৩১ মার্চ) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন তৈরি করতে না পারে।
রুবিওর মতে, বর্তমান ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে তেহরানের হাতে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র চলে আসে, তাহলে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা টোল আদায়ের চেষ্টা মেনে নেবে না ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রয়োজনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সরাসরি ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনা প্রস্তাব এলেও ওয়াশিংটনের ওপর বৈশ্বিক আস্থা কম।
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছিল। তবে ইরান জানিয়েছে, ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক চারদেশীয় বৈঠকে তারা অংশ নেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-কে ঘিরেই মূল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায়, এখানে কোনো অস্থিরতা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত দ্বিতীয় মাসে গড়িয়েছে। ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
সূত্র: এবিসি নিউজ