ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় বসতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই অধিবেশনের সূচনা হবে।
সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা।
কিন্তু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পদত্যাগ করেন তৎকালীন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন। ফলে স্পিকারের শূন্য আসন নিয়েই শুরু হচ্ছে এবারের সংসদ।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা তারেক রহমান সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন।
অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করার পর ওই জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বেই শুরু হবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া।
প্রথম দিনে যা যা থাকছে
প্রথম অধিবেশনটি প্রায় এক মাস চলতে পারে। প্রথম দিনের কার্যসূচি সম্পর্কে চিফ হুইপ জানান, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে একাধিক প্রার্থী না থাকলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমেই তারা নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচনের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এই বিরতিতে সংসদ ভবনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রথম বৈঠকে সরকারের প্রধান কাজ হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে জারি করা প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা।
এসব অধ্যাদেশ বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এরপর সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম ও নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন হিসেবে সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়েই প্রথম দিনের অধিবেশন মুলতবি হবে।
ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব ফেরাল জামায়াত
সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সাধারণত সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হলেও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই আলোকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বিএনপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে ‘বিএনপির উদারতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও আপাতত সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জামায়াত।
বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির সংসদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে চাইছি না। সংসদে আগে জুলাই সনদের প্রশ্নটি নিষ্পত্তি হতে হবে। এরপর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।’
স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে
এর আগে বুধবার সকালে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ উপনেতা কে হবেন— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংসদ নেতার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন (বিএনপি এককভাবে ২০৯টি) পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন (জামায়াত এককভাবে ৬৮টি)। এবারের সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলিয়ে ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন হওয়ায় সংসদীয় রীতির ক্ষেত্রে এটিকে একটি ব্যতিক্রমী সংসদ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।