ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
নবগঠিত সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ছাড়লেন পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন বিএনপি নেতা ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও বিদ্যমান পরিচালকদের মধ্যে থেকে কাউকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয়নি। বরং নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে তাকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক এবং একই সঙ্গে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
ন্যাশনাল ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠিত হয়। ২০ আগস্ট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
দেড় বছরের মাথায় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
একই সঙ্গে ব্যাংকটির আরেক পরিচালক জাকারিয়া তাহেরও নবগঠিত সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বাংকটির পরিচালকের পদ ছেড়েছেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
একইদিন কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন বিএনপি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
মিন্টু ও তাহের পরিচালক পদ ছাড়ায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ৬ জনে নেমে এসেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ব্যাংকটির অন্য পাঁচ পরিচালক হলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন (ভাইস চেয়ারম্যান), জুলকার নায়েন (স্বতন্ত্র পরিচালক, মুখলেসুর রহমান (স্বতন্ত্র পরিচালক), আব্দুস সাত্তার সরকার এফসিএমএ, এফসিএ এবং আদিল চৌধুরী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)।
তথ্য মতে, অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন ন্যাশনাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক।
তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় তাকে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তিনি আইবিএ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৯ সালে আইবিএতে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।
কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে ড. মেলিতা যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং ফিন্যান্সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তার পিএইচডি গবেষণা ছিল ‘দ্য পলিটিক্স অব সিএসআর রিপোর্টিং: এ ট্র্যাডিশনাল ইকোনমি পার্সপেক্টিভ’। তিনি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একাডেমিয়ায় প্রবেশের আগে ড. মেলিতা করপোরেট সেক্টরে ৫ বছর ধরে কাজ করেছেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বাংলাদেশ এবং সিটিব্যাংক, এনএতে কর্মরত আছেন।
তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ড. মেলিতা জার্নাল অব ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস অ্যান্ড গভর্নেন্স এবং জার্নাল অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগী সম্পাদক। বর্তমানে তিনি গ্রামীণ ফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বাংলাদেশ এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের স্বাধীন পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বিআরটি) নিয়োগ কমিটির মনোনীত সদস্য এবং পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) নিয়োগ কমিটির মনোনীত সদস্য।
তিনি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বিআরটি) নিয়োগ কমিটির মনোনীত সদস্য এবং পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) নিয়োগ কমিটির মনোনীত সদস্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের প্রয়াত অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের মেয়ে।