ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

যেভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিদায় নিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:১২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


যেভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিদায় নিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের এভাবে বিদায় হওয়াটাকে অনেকেই নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে প্রচণ্ডভাবে অনড় ছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর সংস্কারের জন্য তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন জোর দিয়েছিলেন।

কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে গভর্নরের চিঠির উত্তর দেন। সেখানে ড. সালেহ উদ্দিন ব্যাংক সংস্কারের বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।

 

২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের যা বলেছিলেন:

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে তিনি বলেন, আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফ অর্থমন্ত্রীকে করেছি। তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি খুবই ইতিবাচক।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আহসান মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি তো কমাতেই হবে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই।

বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

 

খেলাপি ঋণ কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করা এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একীভূত হওয়ার পর এসব ব্যাংককে স্থিতিশীল রাখা এখন প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। পুরোনো আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও আসছে।

এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি সরকার নীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে পরিকল্পনা সর্বোপরি ব্যাংক সংস্কারের বিষয়ে তিনি কথা বলেন। এর দুদিন না যেতেই হঠাৎ তার বিদায়, সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমন কি হলো যে তাকে অনেকটা রাতারাতি বিদায় হতে হলো।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খুব সাদামাটাভাবে বলেন, প্রয়োজনেই গভর্নরের পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার এসেছে। অনেক পরিবর্তন হবে। এটা নতুন কিছু না। আরও পরিবর্তন হবে।

জানা গেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে অতি গোপনীয় একটি ফাইল নিয়ে অর্থমন্ত্রী দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার পর অর্থ বিভাগের সচিব এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিবকে ডেকে পাঠান অর্থমন্ত্রী। এরপরেই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. আহসান এম. মুনসুরের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে অপর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


আহসান এইচ. মনসুরের নিয়োগ বাতিলের আগে গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও হিসাববিদ। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেলেন।


   আরও সংবাদ