ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
নগদ নামের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে চায় একাধিক বিনিয়োগকারী। তবে এখন পর্যন্ত একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত আইনজীবী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাবিদকের এ তথ্য জানান আইনজীবী আরমান।
আরমান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমাদের কাছে এ ধরনের একটি তথ্য ছিলো যে সরকার নগদে বিনিয়োগকারী খুঁজছে।
এ বিষয়ে আমি আমার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদে অডিট করার অনুমতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে কথা বলি। গভর্নর জানিয়েছেন সরকার যদি নগদকে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নেয় তবেই এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নগদের বিষয়ে চূড়ান্ত নীতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। যদি বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো এটিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিলেন আরমান। সংসদ সদস্য পরিচয়ের বাইরে একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবেই তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
আরমান বলেন, আমি একজন পেশাদার আইনজীবী। এর আগেও ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এখন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাজ করছি এবং আইনি সহায়তা দেব।
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এমএফএস খাতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছিলেন। নগদে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, তা জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট করার আগ্রহের কথাও গভর্নরকে জানানো হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ।
পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নগদকে নিয়ম ভেঙে নানা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করলে নগদের দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।