ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বিএনপি, সরকারে যাচ্ছে ২০ বছর পর

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


বিএনপি, সরকারে যাচ্ছে ২০ বছর পর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

 

ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান জানান, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ২শ ৭২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা আমাদের হাতে এসেছে।

 

ইসি ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা গেছে, বিএনপি পেয়েছে ২০১টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৫৩টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে চারটি আসন, স্বতন্ত্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছেন ছয়জন।

 

এ ছাড়া অন্যান্য দলের অন্তত আটজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

জাতীয় সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করা যায়। এই হিসাবেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সগৌরবেই এবারও দলটি সংসদে যাচ্ছে। 

 

সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।

 

সে সময়ও একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও চার দলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছিল ১৯৫টি আসনে।

ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান জানান, খুব দ্রুতই নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। কেননা, যত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে, তত দ্রুত নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য শপথ হবে এবং সংসদ বসবে।

 

 

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসাবে তিনি বলেন, টানা ২৪ ঘণ্টার কাজ করার পর মাঠে অনেক অফিসার বিশ্রাম নিতে যাওয়ায় অনেকেই এখনও বার্তাশিট পাঠাতে পারেননি। বাকিগুলোও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটে ২শ ৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করায় সেই আসনের ভোট স্থগিত রেখেছে ইসি। এই আসনের এখন নতুন তফসিল দিয়ে ভোট করতে হবে।

 

 

 

 

ইসি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাইকে জয়লাভ করেছেন বিভিন্ন আসনে। জামায়াত আমির নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

 

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন এই দলের। জামায়াতে রয়েছেন ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২শ জন, এনসিপির ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। 

 

নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২শ, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার সঙ্গত কারণে এবার ভোট দিতে পারছেন না। ফলে ২শ ৯৯ আসনের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।

 

এখনও কত শতাংশ ভোট পড়েছে তার তথ্য জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়ার হার জানিয়েছে সংস্থাটি। 

 

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য প্রবাস থেকে সাত লাখ ৬৭ হাজার ২শ ৩৩ জন এবং সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কয়েদিরা মিলে নিবন্ধন করেছিলেন সাত লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন। অর্থাৎ মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন নিবন্ধন করেছিলেন পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে। এদের মধ্যে প্রবাস থেকে ভোট দিয়েছেন পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৩শ ৭২ জন এবং দেশে ভেতরে ভোট দিয়েছেন ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৮১৬ । মোট ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভোট বাতিলও হয়েছে। 

 

ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, ভোট পড়ার হার জানাতে একটু সময় লাগবে। কেননা ৩শ আসনের তথ্য একীভূত করে হিসাব মেলাতে হবে।

 

ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নিতে দল ও প্রার্থীদের আহ্বান জানালেও ইতোমধ্যে ভোটাধিকার ম্যানুপুলেশন হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত। 


   আরও সংবাদ