ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৫৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং এ দায়িত্বে কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারকে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার ।
সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্র মানে সবার সমান সুযোগ, সবার প্রতি সহিষ্ণু আচরণ। আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন পক্ষ অন্য পক্ষকে সেই সুযোগটা দিতে চাচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমরা লক্ষ্য করেছি যে, অমুক দল, অমুক আসলে আমি আসবো না, অমুক প্রার্থী থাকলে আমি থাকবো না।
এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমরা মনে করেছিলাম যে এর পরিবর্তন হবে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন এ মানসিকতা পরিহার করে।
এটা অসহিষ্ণুতা, এ অসহিষ্ণুতা থেকেই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। আমরা কোথাও কোথাও দেখেছি ডিম ছোড়া, ময়লা পানি ফেলা, সহিংসতা এখনই এটা যদি বন্ধ না হয়, দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা যদি এসব থেকে বিরত না থাকে, নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যদি এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনে তাহলে পরিস্থিতি বেসামাল পর্যায়ে যাবে।
আরেকটা হলো টাকার খেলা, এই টাকার খেলা, একটা কথা আছে টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো সুপারিশ করেছিলাম। আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল যে, নির্বাচন কমিশন যেন প্রতিনিয়ত প্রার্থীদের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন উপেক্ষা করছে আমাদের এ প্রস্তাব।
এই যে টাকার খেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে এটা অব্যাহত থাকায় অতীতের অতীতের ব্যবস্থাই যেন অব্যাহত রেখেছে সেটা আমরা লক্ষ্য করছি। বিশেষত ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে এবং দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমার যতটুকু মনে পড়ে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, মনোনয়ন বৈধ করলাম ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। তার মানে এটা স্পষ্ট ওই ব্যক্তি ঋণ খেলাপি। একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনোভাবে এটা হতে পারে না। আমার মনে হয় নির্বাচন কমিশন তাদেরকে প্রশ্ন করা দরকার এ ধরনের আচরণ তারা কি ভবিষ্যতেও করবে। তারা যদি ভবিষ্যতেও এরকম আচরণ করে তাহলে আমাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে। এই নির্বাচনও বিতর্কিত হতে বাধ্য। আমি আশা করি যে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আরও কঠোরতা প্রদর্শন করবে । কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে তাহলে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। আরও যেটা লক্ষ্য করেছি পোস্টার ব্যালট এর ব্যাপারে একটা বিতর্ক উঠেছে। আমরা আশা করছিলাম, এখনো আশা করছি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টা সূরাহা করবে। কারণ পোস্টার ব্যালট কিন্তু পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকেই নির্বাচনী ফলাফলকেই বিতর্কিত করে দিতে পারে। আরেকটা হচ্ছে অপতথ্য এখন এআই এর যুগে অনেক কিছু করা সম্ভব। জীবিত প্রাপ্তিকে মৃত করা, মৃতকে জীবিত করা এবং বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালানো। অতীতে করা হয়েছে কিন্তু ভবিষ্যতে এ নির্বাচনে আরও অনেক বেশি করা হবে। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে সজাগ থাকা দরকার এবং তৎপর থাকা দরকার। কারণ এগুলো নির্বাচন প্রভাবিত করবে। আমরা আশা করব যে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তৎপর হবে এবং তাদের করণীয় করবে।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের বার্ষিক আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য দেখে ‘অনেক প্রার্থী তথ্য গোপন করেছেন’ জনমনে এমন ধারণা জোরালো। এক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছে? প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কি নমনীয় ছিল? এ ধারণাগুলোর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা থাকলেও তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি সুজনের আহ্বানে বলা হয়, শতভাগ নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বাচন পরিচালনা, করুন। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের ভালো দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করুন। সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করুন। প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন করুন। কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করুন। কেউ নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করলে, তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নির্বাচনে কোনো ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হলে, সেই কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করুন এবং প্রয়োজনে ফলাফল বাতিল করুন । নির্বাচনী অনিয়ম হলে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিন।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সুজনের লিখিত বক্তব্যে সরকারের প্রতি আহ্বানে বলা হয়, একটি নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিন। নির্বাচনী এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা বিধানে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সদাসতর্ক রাখুন । নির্বাচনসংশিষ্ট সবার প্রতি এ বার্তা দিন যে, সরকার অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় এবং কেউ অনিয়ম করলে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এতে রাজনৈতিক দলের প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলুন। যে কোনো মূল্যে বিজয়ী হওয়ার মনোভাব পরিত্যাগ করে নির্বাচনকে একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে গ্রহণ করুন। 'আমরা যে কোনো মূল্যে বিজয়ী হবোই এ ধরনের বক্তব্য না দিয়ে, গণরায় মাথা পেতে নেওয়ার ঘোষণা প্রদান করুন। দল, দল মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে ব্যাপারে দল থেকে তাদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনসংশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য প্রভাবিত করা থেকে বিরত থাকুন। অন্য দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব না হানাহানিতে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। ফলাফল যাই হোক না কেন, তা স্বাভাবিকভাবে মেনে দিন।