স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৭:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
চাপের ম্যাচে বল হাতে দাপট দেখিয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী। প্রতিপক্ষকে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে দিয়ে তারা নিশ্চিত করে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়।
রাজশাহীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ছিলেন একেবারেই বিধ্বংসী।
মাত্র ৯ রান খরচায় ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তার নিখুঁত লাইন- লেংথে একের পর এক ধস নামে প্রতিপক্ষ শিবিরে।
বিনুরার সঙ্গে সমান তালে আঘাত হানেন হাসান মুরাদ। এই বাঁহাতি স্পিনার শিকার করেন ৩টি উইকেট, মাঝের ওভারে রান তোলার সব পথ বন্ধ করে দেন তিনি।
অলরাউন্ডার জিমি নিশামও বল হাতে দারুণ ছিলেন। অভিজ্ঞ এই কিউই তারকা নেন ২টি উইকেট। বাকি উইকেটটি নিজের ঝুলিতে পুরে নেন আবদুল গাফফার সাকলাইন।
দলগত বোলিং পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে কখনোই ম্যাচে ফিরতে দেয়নি রাজশাহী।
নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই অলআউট হয়ে যায় তারা, ফলে সহজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী দল।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী শুরুটা করে সতর্কভাবে। ওপেনিং জুটিতে সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ সময় নিয়ে ইনিংস গড়তে থাকেন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪০ রান তোলে দলটি। শুরুতে ফারহান তুলনামূলক ধীরগতিতে খেললেও তানজিদ ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন।
ইনিংসের মাঝখানে তানজিদের ব্যাটে আসে গতি। অন্য প্রান্তে ফারহান দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৩০ বলে ৩০ রান করার পর ৮৩ রানে ফিরে যান। তিন নম্বরে নেমে অভিজ্ঞ কেন উইলিয়ামসন ইনিংসকে এগিয়ে নিতে থাকেন। এরই মধ্যে নিখুঁত টাইমিং ও বাউন্ডারির মিশেলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।
অর্ধশতক ছোঁয়ার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি ওপেনার। চার ও ছক্কায় চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত এগোতে থাকেন সেঞ্চুরির পথে। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে ১৩০ রানে আউট হলেও তানজিদের তাণ্ডবে থামেনি রাজশাহী।
শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তানজিদ হাসান তামিম। ইনিংসটি শেষ হয় ৬২ বলে ঠিক ১০০ রান করে তার বিদায়ে। যেখানে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন চার ও ছক্কা। এরপর জিমি নিশাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে মনোযোগ দেন। শান্ত ৭ বলে ১১ রান করে শেষ বলে আউট হন, নিশাম ৬ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফাইনালের মঞ্চে তানজিদের সেঞ্চুরি ভর করে শিরোপা লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের সামনে হার মানতে হয় চট্টগ্রামকে।