স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
আইসিসির বোর্ড সভায় ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের দাবি ১৪-২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে। তবে এই হারের চেয়েও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের বেশি ব্যথিত করেছে দীর্ঘদিনের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ জিম্বাবুয়ের অবস্থান।
যে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই দেশটিই আজ বিপদের দিনে আইসিসির দরবারে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দিল।
বুধবারের সভায় ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের ভোটটি ছিল সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন—বছরের পর বছর জিম্বাবুয়েকে যে মর্যাদা ও আদর-যত্ন দিয়ে বাংলাদেশে আতিথেয়তা দেওয়া হলো, তার প্রতিদান কি এই?
এক সময় জিম্বাবুয়ে যখন টেস্ট স্ট্যাটাস হারিয়েছিল এবং কোনো বড় দল তাদের সঙ্গে খেলতে চাইত না, তখন বিসিবি বারবার তাদের সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রাণভোমরা টিকিয়ে রেখেছিল। দুই দেশের লড়াইকে অনেকেই ‘গরিবের অ্যাশেজ’ বলে উপহাস করলেও বাংলাদেশ কখনও তাদের ত্যাগ করেনি। বিনিময়ে জিম্বাবুয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং বাংলাদেশও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে।
কিন্তু সেই ‘বন্ধুত্ব’ যে কতটা ঠুনকো, আইসিসির ভোটাভুটিতে তা আজ প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে কেবল পাকিস্তান। মূলত লঙ্কান টিম বাসে হামলার পর পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরাতে বিসিবির যে ভূমিকা ছিল, তার প্রতিদান হিসেবেই পাকিস্তান ভোট দিয়েছে। এর আগে তারা আইসিসিকে চিঠিও দিয়েছিল।
তবে এই সংহতি কেবল ভোটেই সীমাবদ্ধ। কারণ পাকিস্তান আগেই তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (হাইব্রিড মডেল) খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রেখেছে। ফলে তারা বাংলাদেশের দাবির সাথে একাত্মতা দেখালেও নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটবে না।
আইসিসির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি যদি ভারতে খেলতে যাওয়ার চূড়ান্ত সম্মতি না জানায়, তবে গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের নাম কেটে সেখানে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা আর এক মুহূর্তও বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নয়।
বিশ্ব ক্রিকেটের এই কূটনীতিতে বাংলাদেশ কার্যত আজ বন্ধুহীন হয়ে পড়ল কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বড় দলগুলো তো বটেই, এমনকি সহযোগী দেশগুলোও বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।