ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মরক্কোকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতল সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৫:২৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৯ বার


মরক্কোকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতল সেনেগাল

আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে দেখা গেল একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত হন তাদের কোচ পাপ ঝাও। এক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যেতে ইশারাও করেন তিনি।

 

 

পরে অবশ্য দল মাঠে ফিরে আসে। এরপর মরক্কোর পেনাল্টি মিস, অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত গোল; সব মিলিয়ে ঘটনাবহুল এক ফাইনালে শিরোপা জিতেছে সেনেগাল।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে রোববার রাতের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে সেনেগাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই জয়সূচক গোলটি করেন পাপ গেয়ি।

 

এই জয়ে দ্বিতীয়বার আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জিতল সেনেগাল। তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০২১ সালে। অন্যদিকে মরক্কোর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। আফকনে তাদের একমাত্র শিরোপা ১৯৭৬ সালের।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসেনি। পঞ্চম মিনিটেই সেনেগাল এগিয়ে যেতে পারত, কিন্তু পাপ গেয়ির হেড গোলরক্ষক বরাবর চলে যায়। ৩৭ মিনিটে ইলিমান একা সুযোগ পেলেও ইয়াসিন বোনো এগিয়ে এসে শট ঠেকিয়ে দেন। চার মিনিট পর মরক্কোরও বড় সুযোগ আসে, কিন্তু ইসমায়েল সাইবারির ক্রসে নায়েফ হেড করতে পারেননি।

বিরতির পর মরক্কো বেশি আক্রমণ করে।

শুরু ১৫ মিনিটে তারা কয়েকটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ৬৭ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করতে গিয়ে এল আইনাউই চোখের ওপর আঘাত পান, রক্ত ঝরলেও চিকিৎসা নিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলায় ফেরেন।

 

ম্যাচের শেষদিকে শুরু হয় বড় বিতর্ক। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে কর্নার থেকে দূরের পোস্টে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হন। ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় মাঠজুড়ে। সেই সময় সেনেগাল কোচ খেলোয়াড়দের টানেলে চলে আসতে ইশারা করেন, কিছুক্ষণ পরে তারা ড্রেসিংরুমের দিকেও চলে যান। অনেকক্ষণ পর মাঠে ফিরে আসে সেনেগাল দল।

এরপর পেনাল্টি নিতে যান ব্রাহিম দিয়াস। কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল পানেনকা শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক। ওইভাবেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৯৪ মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো কোনাকুনি শটে গোল করেন পাপ গেয়ি। পরে মরক্কো সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। একবার নায়েফের হেড ক্রসবারে লাগে। বদলি শেরিফ এনজাইয়ের সামনে সুযোগও আসে, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

শেষ পর্যন্ত সব নাটক আর বিতর্কের মধ্যে জয় ধরে রেখে শিরোপা ঘরে তোলে সেনেগাল। তবে ফাইনালের নানা অস্বস্তিকর ঘটনার কারণে ম্যাচের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।


   আরও সংবাদ