ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী সবুজ বাটান

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫১ বার


বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী সবুজ বাটান

দূরদেশের পাখিদের ডানা মেলার আহ্বান নিয়ে আসে শীতকাল। এ মৌসুমেই দেশের নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে থাকে। কীভাবে যেন সেই সব পরিযায়ী পাখিরা উপলব্ধি করে, তারা এখনই ডানা মেলার চূড়ান্ত ক্ষণে পৌঁছেছে। এভাবেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলে পরিযায়ী পাখিরা।

 

শিকার ধরার উদ্দেশ্যে জলাভূমির ওপর দিয়ে ওরা যখন নীরবে হেঁটে যায়, তখন তাদের দেহছায়া পানির ওপরে জন্ম দেয় তাক লাগানো সৌন্দর্যের। মনে হয়, এ যেন কোনো দ্বৈত পাখির তাৎক্ষণিক বিচরণ। সূর্যের উজ্জ্বলতার ভেতর দিয়ে এই ছায়া আরও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে সেই সুস্পষ্ট অবয়বসম্পন্ন বিচরণরত পাখিটির সঙ্গে সঙ্গে।

পাখিবিজ্ঞানীরা দূরদেশের উদ্দেশ্যে ডানা মেলা এমন সব পাখির নাম দিয়েছেন ‘মাইগ্রেটরি বার্ড’, অর্থাৎ পরিযায়ী পাখি।

জেলার প্রসিদ্ধ সংরক্ষিত জলাভূমি বাইক্কা বিল এখন মুখর এমন সব পাখির কলকাকলিতে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে পরিযায়ীরা আসর জমিয়েছে এখানে।

 

সৈকতে বিচরণকারী এই সবুজ বাটান একটি পরিযায়ী পাখি। এর ইংরেজি নাম Green Sandpiper এবং বৈজ্ঞানিক নাম Tringa ochropus।

জলাভূমিতে যখন এরা ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে, তখন স্বচ্ছ পানিতে তাদের ছায়াটি অপূর্ব সৌন্দর্য নিয়ে ফুটে ওঠে।

 

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বাংলানিউজকে বলেন, এরা বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি। শীত মৌসুমে হঠাৎ হঠাৎ এদের সৈকতে ঘুরে বেড়ানো পাখিদের দলে দেখা যায়। ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত উপমহাদেশের প্রায় সব দেশসহ এশিয়াজুড়ে এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

পাখিটির শারীরিক বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৭৫ গ্রাম।

প্রজননকাল ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কালচে বাদামি দেহতলে খুব ছোট ফিকে তিলা দেখা যায়। তাদের পেট, বগল ও চোখের সামনের ভ্রুরেখা সাদা। মাথা ও ঘাড় ছাই-বাদামি এবং পা ও পায়ের পাতা জলপাই সবুজ। এর রয়েছে সোজা, খাটো ও অনুজ্জ্বল সবুজাভ ঠোঁট, যার আগা কালো।

 

ব্রিডিং পিরিয়ডে (প্রজননকাল) এদের পিঠে বড় সাদা তিলা, ঘাড়ে ও বুকের ওপরের অংশে বাদামি ডোরা দেখা যায়। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন বলে জানান তিনি।

সবুজ বাটান পাখিটির স্বভাব সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, মজার বিষয় হলো-বিরক্ত হলে এরা মাথা ওঠানামা করে রাগ প্রকাশ করে। ওড়ে যাওয়ার সময় বাঁশির মতো তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। লতাপাতায় ঘেরা অগভীর মিঠাপানির জলাভূমি, নদীর পাড়, বর্জ্য রাখার জায়গা, ছোট পুকুর, ডোবা, সরু খাদ ও পাহাড়ি নদীতে এদের বিচরণ দেখা যায়। অগভীর পানিতে হেঁটে নরম কাঁদায় ঠোঁট ঢুকিয়ে এরা খাবার খায়।

শামুক ও চিংড়ি জাতীয় প্রাণী, কেঁচো, পানির অমেরুদণ্ডী প্রাণী ও উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে সবুজ বাটানের খাদ্যতালিকায়। এপ্রিল-জুন এদের প্রজনন মৌসুম। তখন এরা সাইবেরিয়াতে অন্য পাখির বাসায় তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে বলে জানান এই পাখি গবেষক।


   আরও সংবাদ