ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ক্রিপ্টো ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


ক্রিপ্টো ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি!

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বা ৭৮ হাজার কোটি টাকার ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা।

চাঞ্চল্যকর এই হামলায় চুরি হওয়া অর্থের সিংহভাগই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে।

 

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা ও উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় ধনকুবের চাংপেং ঝাওয়ের প্রতিষ্ঠানটি।

 

 

একইসঙ্গে ব্যবহারকারীদের সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের তহবিল নিরাপদ রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই সাইবার হামলার সূত্রপাত উত্তর কোরিয়া থেকে হয়ে থাকতে পারে।

কীভাবে ঘটলো এত বড় চুরি?

বাইন্যান্সের লেনদেন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স প্রথমে জানায়, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর ল্যাপটপ হ্যাক করার মাধ্যমে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী তদন্তে আরও কিছু নিরাপত্তাগত ত্রুটি সামনে এসেছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বাইন্যান্সের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন রিজার্ভ নিয়ে একটি সুরক্ষিত তহবিল পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কো-সিইও রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, এই তহবিল এবং কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে চুরির কারণে সৃষ্ট সব ক্ষতি পূরণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের তথ্যানুযায়ী, বাইন্যান্সের সাইনিং স্ট্রাকচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়ালেটগুলো খালি করে দেয় হ্যাকাররা। ব্লকচেইনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরপরই সেগুলো বাইন্যান্সের অংশীদার ও স্টেবলকয়েন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হ্যাকাররা। তবে ইতোমধ্যে চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক ফ্রিজ করা হয়েছে।

হংকংয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিসংক্রান্ত মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী জশুয়া চু বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হ্যাকাররা হয়তো ভল্টের চাবি চুরি করেনি, তারা হয়তো সেই সিস্টেমটিকেই হাইজ্যাক করেছে, এর মাধ্যমে ভল্টকে টাকা ছাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।’

হামলার পেছনে কারা?

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অতীত সাইবার কার্যক্রমের মিল রয়েছে।

বাইন্যান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, তদন্তে এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই সাইবার হামলা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেনেভায় উত্তর কোরিয়ার মিশন এবং চীনে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চুরি হওয়া অর্থ কোথায়?

চুরি যাওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক ছিল স্টেবলকয়েন। পরবর্তী সময়ে টেথার, সার্কেল, রিপল এবং ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সসহ বিভিন্ন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান এসব সম্পদের কিছু অংশ ফ্রিজ করেছে।

সম্পদ ফ্রিজ করার অর্থ এই নয় যে সেগুলো সরাসরি বাইন্যান্সকে ফেরত দেওয়া হবে। এর ফলে মূলত হ্যাকারদের পক্ষে ওই কয়েনগুলো নগদ অর্থে রূপান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চুরি হওয়া অর্থ সরানোর জন্য হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশল নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অন্য সম্পদের সঙ্গে চুরি করা কয়েন মিশিয়ে ফেলা কিংবা কম পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ও এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করা।

স্টেবলকয়েন প্রতিষ্ঠান ট্রেস ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী বার্নার্ডো ব্রিটস বলেন, সময় যত গড়াবে, অন্য কোনো এক্সচেঞ্জ বা পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তত কমবে। কারণ এসব সম্পদ কালোতালিকাভুক্ত হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাস্তবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাচার করা সম্ভব।

ক্রিপ্টো বাজারে কী প্রভাব পড়বে?

টিআরএম ল্যাবসের তথ্যানুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৫০ সাইবার হামলার মাধ্যমে ২৯০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিল।

বাইন্যান্সে নতুন এই হামলার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্টেবলকয়েনের বাজারমূল্যও কমেছে।

বাজারের এই পরিস্থিতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের একাংশ দ্রুত ডিজিটাল সম্পদ থেকে নিজেদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।

এত বড় অঙ্কের সম্পদ চুরি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ভবিষ্যৎ আস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।


   আরও সংবাদ