ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকে ভ্রমণ করতে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ১০টার দিকে অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। আলোচনার একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।
পরে সকাল ১১টার দিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি ছুড়লে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
আইএসপিআর জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের কোনো বক্তব্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে