ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
সকালের শুরুটা যেমন সারাদিনের কর্মশক্তি ও মনোভাবকে প্রভাবিত করে, তেমনি দিনের প্রথম খাবার ও পানীয়ও শরীরের সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু প্রাকৃতিক পানীয়তে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব পানীয় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়।
সকালে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন পাঁচটি পানীয়।
লেবু মিশ্রিত পানি
সকালে এক গ্লাস লেবু মেশানো পানি দিয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সামান্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু লেবুপানি পান করলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চিনি ছাড়া সাধারণ বা হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।
বিটরুটের রস
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক পানীয়গুলোর মধ্যে বিটরুটের রস অন্যতম। এতে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালী শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন গবেষণায় বিটরুটের রস পান করার সঙ্গে রক্তচাপ, বিশেষ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সকালে অল্প পরিমাণ তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি মেশানো উচিত নয়। কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে বিটরুট গ্রহণের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ডাবের পানি
ডাবের পানিতে রয়েছে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও কার্যকর।
তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডাবের পানিকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। যাদের কিডনির কার্যকারিতা কম বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের ডাবের পানি পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্যাকেটজাত ডাবের পানি কেনার আগে উপাদান তালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও সোডিয়ামের উপস্থিতি পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
গ্রিন টি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৪ সালে প্রকাশিত American Journal of Clinical Nutrition-এর একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি গ্রহণের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই চিনি ছাড়া পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করাই ভালো।
আমলকি মিশ্রিত পানি
ভিটামিন সি, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের ভালো উৎস আমলকি। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
সকালে এক গ্লাস পানিতে অল্প পরিমাণ আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। আমলকির কিছু উপাদান বিপাকীয় ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাবনাময় হলেও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমলকিপানির কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে—এমন দাবিরও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
পানীয়ের পাশাপাশি যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
সকালের পানীয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার করাও জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা যাবে না। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়।