ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে এনবিআরের সব গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর সমন্বয়ে গঠিত চারটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি বারে একযোগে সমন্বিত অভিযান পরিচানা করে বিপুল পরিমান অবৈধ লিকার জব্দ করে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় এনবিআরের বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট ও মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী আহম্মেদ বলেন, চারটি টিম চারটি বারের মধ্যে গুলশানের ফুওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস, র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, উত্তরার মারগারিতা লাউঞ্জ এবং তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালে অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি জানান, ফুওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বৈধ কোনো ডকুমেন্টস ছাড়াই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার জব্দ করা হয়।
পণ্যগুলো একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে রেস্তোরাঁর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করে টিম। এছাড়া, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকৃত জিনসেং নামের প্যাকেটজাত পণ্য এবং প্রায় ১ কেজি উচ্চ মূল্যের জাফরান সুটকেস থেকে জব্দ করা হয়।
গুলশানের র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনবিহীন লিকার জব্দ করা হয়।
মারগারিতা লাউঞ্জ বারে অভিযান চালিয়ে ৬০৮ লিটার অবৈধ লিকার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশি উৎপাদিত (কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ও হার্ডসন) পণ্যের কাগজপত্রেও যথেষ্ট সন্দেহ পাওয়া গেছে। বাকি পুরোটাই অবৈধ বিদেশি অ্যালকোহল।
এছাড়া হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালে অন্য প্রতিষ্ঠান হাবিব হোটেলের নামে লাইসেন্সকৃত ও পরিচালিত বারের মাদকদ্রব্য আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআরের ইতিহাসে এই প্রথম সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট, ভ্যাট গোয়েন্দা এবং লোকাল ভ্যাট কমিশনারেট-সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে সমন্বিতভাবে কোনো অভিযান পরিচালনা করল। পাশাপাশি র্যাব এবং সশস্ত্র বাংলাদেশ আনসারের অভূতপূর্ব ও পেশাদার সহযোগিতা এই অভিযান সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ জানান, আটক করা মালামালের প্রকৃত বাজারমূল্য, পণ্যের বৈধতা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক কারা-তা জানতে আমদানি, স্থানীয় ক্রয়, বিক্রয় ও স্টক রেজিস্টারের তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ক্রস-চেক শেষে খুব দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।