আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৭ বার
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে লড়াই বন্ধে ইরানের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় ছিল তেহরান।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের খবরটি তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ইরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক লড়াই স্থগিতের জন্য সাত দিনের সময় গণনা শুরু হবে।
আরাগচির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং হরমুজ খুলে দিতে আন্তরিক হলে ইরানের দিক থেকে সব প্রস্তুতি রয়েছে।
সমঝোতার পর উভয় পক্ষের সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু হতে পারে।
প্রস্তাবটি লেবাননসহ সংঘাতের সব রণাঙ্গনের জন্য প্রযোজ্য বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর শর্ত হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ অর্থ ছাড় এবং তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছেড়ে দেওয়া কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নেও তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত।
এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলেছিলেন। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার শর্ত মানবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সন্দিহান। তিনি সহযোগীদের কাছে আবার বোমা হামলার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তেল পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে অবহিত করেছেন আরাগচি।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখী দুটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইতকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তারা। জোটের দাবি, ইয়েমেনের হুথিরা এগুলো ছুড়েছে। শুক্রবার রিয়াদে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক প্রধানেরা নিরাপত্তা হুমকি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেন।
হরমুজে চলাচল অনেকটাই বন্ধ থাকায় বিকল্প লোহিত সাগর রুটও হুথিদের হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই মানবিক সংকট বাড়াচ্ছে; শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টিও বাড়ছে।