ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মালয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


মালয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের

ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া, দলে নতুন প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি সব মিলিয়ে প্রত্যাশা আর উন্মাদনার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে লাল-সবুজ সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করছিল একরাশ হতাশা।

ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা হলো চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। রক্ষণের নিদারুণ ব্যর্থতা আর বোঝাপড়ার অভাবের চরম মাশুল গুনে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করল থমাস ডুলির শিষ্যরা।

 

সান মারিনোর বিপক্ষে জয়ী দল থেকে একাদশে এক ধাক্কায় ৭টি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ ডুলি। এই ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফের।

তবে কোচের এই অতি-পরীক্ষামূলক কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়েই ফিরেছে। ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা মাঠে নিজেদের ছায়াই হয়ে ছিল বাংলাদেশ দল।

খেলোয়াড়দের মাঝে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট, আর এই ছন্নছাড়া ফুটবলের সুযোগটাই শতভাগ কাজে লাগিয়েছে মালয়েশিয়া।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই মালয়েশিয়ার আগ্রাসী ফুটবলের সামনে রক্ষণ সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৮তম মিনিটেই ভাঙে ডেডলক। লিয়ানে নোয়ার লং পাস ধরে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুকে বোকা বানিয়ে কোনাকুনি শটে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন আরিফ আইমান। ৩৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের দুর্বলতা আবারও নগ্নভাবে ফুটে ওঠে। এবার তপুর ক্ষমার অযোগ্য এক ভুলে বল কেড়ে নেন বার্গসন। তার দারুণ এক পাসে আগুয়ান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আরিফ। বিরতির ঠিক আগে ফয়সাল হালিমের নিশ্চিত গোল শ্রাবণ রুখে না দিলে প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত।

বিরতি থেকে ফিরে ঘুরে দাঁড়ানোর যেটুকু আশা ছিল, তা নিমিষেই শেষ হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। কোরবিন লাভেরের বাড়ানো বল বক্সের ভেতর দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বার্গসন, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।

ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় শেখ মোরসালিন ও জিদান ইউসুফরা বদলি হিসেবে মাঠে নামলে খেলার ধার কিছুটা বাড়ে। ঘুম ভাঙা বাংলাদেশের সেরা সুযোগটি আসে ৭৬ মিনিটে। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে পাস দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে হামজা চৌধুরী পরপর দুটি জোরালো শট নিলেও মালয়েশিয়ান গোলরক্ষকের অতিমানবীয় সেভে জালের দেখা পাননি তিনি। ৮২ মিনিটে ইমনের একটি দুর্বল শটও হতাশ করে সমর্থকদের।

শেষ দিকে প্রতি আক্রমণে মালয়েশিয়ার টিয়ার্নি ফার্গুসের একটি গতির শট শ্রাবণ দারুণভাবে ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি। শেষ বেলায় হামজা-মোরসালিনরা দারুণ ফুটবল খেললেও ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার, তা হয়ে গেছে। ফলে বড় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েই আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করতে হলো বাংলাদেশকে।


   আরও সংবাদ