আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব আগামী ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্লেষকেরা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সরবরাহ কমায় বাড়ছে দাম
যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আগের মতো বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।
একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেলের মজুতও নেমে এসেছে দীর্ঘদিনের তুলনায় অনেক নিচে।
সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় জ্বালানিটির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ডিজেলনির্ভর বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ছে। খবর রয়টার্স, ডন নিউজের।
কৃষিকাজ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহন, বহু গুরুত্বপূর্ণ খাত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি হলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও স্পষ্ট। চলতি মাসে দেশটিতে খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন সমান প্রায় তিন দশমিক ৭৮৫ লিটার।
দাম বাড়ায় কৃষক ও ট্রাকচালকদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ডিজেল মজুতেও দেখা দিয়েছে সংকট
শুধু বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াই নয়, ডিজেল সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যাংক টাইগার’র তথ্যানুযায়ী, উত্তর আমেরিকার কয়েকটি শোধনাগার ও জ্বালানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডিজেল রাখার জন্য নেওয়া স্টোরেজের লিজ নবায়ন করছে না।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। অর্থাৎ অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন বড় পরিমাণ জ্বালানি মজুত করার মতো সরবরাহই নেই।
২০২৭ সালেও থাকতে পারে উচ্চমূল্যের চাপ
বাজারের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বলছে, আগামী বছরেও ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নাও হতে পারে। ফলে ২০২৭ সালেও বিশ্ববাজারে জ্বালানিটির ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের চাপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচও বাড়তে থাকবে।
এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে। কারণ ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে গিয়ে পড়তে পারে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ডিজেল সংকট আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপের কারণ হয়ে থাকতে পারে।