ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২ বার
দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন ফোনটির নাম আইফোন ডুও ।
ভাঁজ খুললে বড় পর্দা, শক্তিশালী এ২০ প্রো চিপ, দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং নতুন সিরি এআই—সব মিলিয়ে প্রচলিত আইফোন থেকে বেশ আলাদা এই ডিভাইস।
বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আইফোন ডুও উন্মোচন করেন অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস।
গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম বড় আইফোন উন্মোচন। অ্যাপলের ভাষায়, মূল আইফোনের পর এটিই আইফোনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।
দুই পর্দার আইফোন
ভাঁজ করা অবস্থায় আইফোন ডুও অনেকটা পাসপোর্টের আকারের। বাইরে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে।
ভাঁজ খুললে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা-যা আইফোনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। খোলা অবস্থায় এটিই অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোন।
দুটি পর্দার অনুপাত একই রাখা হয়েছে। ফলে ফোনটি খোলা বা বন্ধ করার সময় অ্যাপের লেখা বা ছবির বিন্যাস স্বাভাবিকভাবেই বদলে যাবে। ভেতরের পর্দায় ন্যানো-টেক্সচার আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন ও ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান করতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। ফোনটির কাঠামো তৈরি হয়েছে গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম দিয়ে। হিঞ্জে রয়েছে শতাধিক যন্ত্রাংশ। সামনে ও পেছনে সিরামিক শিল্ড সুরক্ষাও থাকছে। ধুলা ও পানির বিরুদ্ধে আইপি৬৮ সুরক্ষা রয়েছে ফোনটিতে।
একসঙ্গে দুই অ্যাপ
বড় পর্দাকে কাজে লাগাতে আইওএস ২৭-এ আইফোন ডুওর জন্য নতুন মাল্টিটাস্কিং সুবিধা এনেছে অ্যাপল। ‘স্প্লিট ভিউ’ ব্যবহার করে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো যাবে। একই অ্যাপের দুটি উইন্ডোও একসঙ্গে খোলা যাবে এবং প্রয়োজনীয় দুটি অ্যাপ জোড়া হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে।
নেটফ্লিক্স, জুম ও স্ল্যাকের মতো জনপ্রিয় অ্যাপও এরই মধ্যে আইফোন ডুওর বড় ও ভাঁজযোগ্য পর্দার সুবিধা ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি অ্যাপ চালিয়ে পর্দার অন্য পাশে সিরি এআইয়ের সঙ্গে কথাও বলা যাবে।
কতটা শক্তিশালী
আইফোন ডুওতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপে রয়েছে ৬ কোরের সিপিইউ, ৭ কোরের জিপিইউ এবং দ্বৈত ১৬ কোরের নিউরাল ইঞ্জিন। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ১৭ প্রোর তুলনায় দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে আইফোন ডুও সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বেশি কার্যক্ষমতা দিতে পারে। তাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিশেষ ভ্যাপার চেম্বার, যা গেম খেলা বা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর সময় ফোনের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
ক্যামেরায় নতুন সুবিধা
পেছনে রয়েছে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। মূল ফিউশন ক্যামেরায় ২ গুণ অপটিক্যাল-মানের টেলিফটো সুবিধা রয়েছে। অন্যটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা, যা ম্যাক্রো ছবিও তুলতে পারবে। ফোল্ডেবল নকশার কারণে ক্যামেরা ব্যবহারের ধরনেও কিছু নতুনত্ব এসেছে। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় বাইরের পর্দায় ছবির প্রিভিউ দেখা যাবে। ‘ডুও প্রিভিউ’ চালু করলে যার ছবি তোলা হচ্ছে, তিনিও বাইরের পর্দায় নিজেকে দেখে অবস্থান ঠিক করতে পারবেন। ভিডিওর ক্ষেত্রেও আইফোন ডুওতে ডলবি ভিশনে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১২০ ফ্রেমে ৪কে ভিডিও ধারণ করা যাবে।
ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে
ফোনটির দুই পাশে আলাদা দুটি ব্যাটারি রয়েছে, তবে দুটিই একসঙ্গে একটি ব্যাটারির মতো কাজ করবে। ভেতরের বড় পর্দায় সর্বোচ্চ ৩১ ঘণ্টা এবং শুধু বাইরের পর্দায় সর্বোচ্চ ৪৪ ঘণ্টা ভিডিও দেখা যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। দুই পর্দা সমানভাবে ব্যবহারে এক চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তারযুক্ত দ্রুত চার্জিংয়ে প্রায় ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ চার্জারে তারহীনভাবে ৫০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগবে।
ফিজিক্যাল সিম নেই
বিশ্বের সব বাজারেই আইফোন ডুও হবে শুধু ই-সিম নির্ভর। অর্থাৎ কোনো সংস্করণেই প্রচলিত ফিজিক্যাল সিম ট্রে থাকবে না। সংযোগের জন্য থাকছে অ্যাপলের এন১ চিপ, যা ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৬ ও থ্রেড সমর্থন করবে। মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য রয়েছে নতুন সি২ মডেম। ফোনটিতে ফেস আইডির বদলে পাশের পাওয়ার বাটনে টাচ আইডি রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে ইউএসবি-সি সংস্করণের অ্যাপল পেনসিলও আইফোন ডুওতে ব্যবহার করা যাবে।
থাকছে নতুন সিরি
আইফোন ডুওতে থাকছে নতুন সিরি এআই। এটি ব্যবহারকারীর মেসেজ, ই-মেইল ও ছবির তথ্য থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় খুঁজে দিতে পারবে। পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে, সেটিও বুঝে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে সিরি। গোপনীয়তা রক্ষায় যতটা সম্ভব এআইয়ের কাজ সরাসরি ডিভাইসেই করা হবে। প্রয়োজন হলে অ্যাপলের ‘প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউট’ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দাম কত, পাওয়া যাবে কবে
আইফোন ডুও পাওয়া যাবে স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই-এই দুই রঙে। স্টোরেজ থাকবে ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টিবি ও ২ টিবি। যুক্তরাষ্ট্রে দাম শুরু হবে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রি-অর্ডার শুরু হবে। ২৩ অক্টোবর থেকে ফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে। আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে বিক্রি শুরু হবে ৩০ অক্টোবর। ফোনটির সঙ্গে থাকবে আইওএস ২৭.১।