ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নুসরাত হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:১১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৮ বার


নুসরাত হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

 

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী  ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার  হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। 

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

 

যাদের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন ও তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।

 

অ্যাটর্নি জেনারেল মো.রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রায়টি হচ্ছে এই ১৬ জন নিম্ন আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে আদালত দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বহাল রেখেছেন। তারা হলেন এই মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৪ জনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তারা হলেন নুর উদ্দিন, জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা পপি।

 

১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্য থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কিংবা দণ্ডটি আদালতের দৃষ্টিতে বহাল থাকা উচিত নয় মর্মে ১০ জন ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন কামরুন নাহার মনি (ঘটনার সময় যিনি গর্ভবতী ছিলেন), হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম ২, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন এবং মাকসুদ কাউন্সিলর। এই ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দৃষ্টিতে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই রায়ের পরে আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে রায়, সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এই মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক যিনি ছিলেন, বিচারক মামুনুর রশিদ—তার সম্পর্কে আদালত বলেছেন যে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদানটা এটা অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স। অর্থাৎ আদালত তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার পুরোপুরি মনের কিংবা বিচারিক যে জুডিশিয়াল মাইন্ড থাকা দরকার, তিনি সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবং তিনি এই জাজমেন্টটা রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কার কীভাবে দণ্ড দেওয়া উচিত, কার কী কতটুকু মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা-সেটাও আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিচারক মামুনুর রশিদকে অবিলম্বে পেনাল এবং সেন্টেন্সিং-অর্থাৎ ফৌজদারি মামলার বিচার এবং সে ক্ষেত্রে তার দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্র থেকে তাকে সরিয়ে আনার জন্য আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রকাশ করেছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।


   আরও সংবাদ