স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:১২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
ম্যাকাইয়ে টেস্টের শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের আগুনঝরা বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের।
একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল, মনে হচ্ছিল টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জার রেকর্ডও হয়তো ভেঙে দিতে পারে বাংলাদেশ। এখন নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড থেকে মাত্র ৮ রান দূরে দল।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের প্রথম বলেই সাদমান ইসলাম গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন।
স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল লেগে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান তিনি। গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান।
এরপর একই ওভারে ফিরে যান তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্কের বলে তৃতীয় স্লিপে বাউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ওপেনার এবার ফেরেন মাত্র ২ বলে। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে যান শান্ত। রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গোল্ডেন ডাকেই ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
স্টার্কের হ্যাটট্রিক ঠেকান মুশফিকুর রহিম। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুমিনুল হকও। স্টার্কের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে গালিতে বাউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করেন মুমিনুল।
এরপর লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। ৬.৪ ওভারে ফুল লেংথের বল লেগ স্টাম্পের দিকে ঢুকে আসে। লিটন ফ্লিক করার চেষ্টা করলেও বল প্যাডে লাগে। প্রথমে আউট দেননি আম্পায়ার। অস্ট্রেলিয়া রিভিউ নিলে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
পরে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের প্রতিরোধও ভাঙেন প্যাট কামিন্স। ১৫.৩ ওভারে অফ স্টাম্পে করা বলটি সামান্য ভেতরে ঢুকে যায়। ফ্রন্ট ফুটে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডের মাঝের ফাঁক দিয়ে বল ঢুকে স্টাম্পে আঘাত করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টেস্ট ব্যাটার ফেরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে।
স্টার্ক প্রথম স্পেলে ৬ ওভার বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। পরে ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আসেন তিনি। তবে লাঞ্চের আগে আর উইকেট পাননি। তাঁর ৭ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্রটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৪ রানের জুটি গড়েছেন দুজন। তাতেই ৩৫ রানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। তবে বিপদ কাটেনি। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন টেস্ট দলীয় সংগ্রহ ৪৩ রান। ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই রেকর্ড থেকে মাত্র ৮ রান দূরে দল।
টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড অবশ্য বাংলাদেশের নয়। ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড মাত্র ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল। সেটিই এখন পর্যন্ত টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
ম্যাকাইয়ে এখন বাংলাদেশের লড়াই শুধু বড় স্কোরের জন্য নয়, নিজেদের লজ্জার রেকর্ড থেকে বাঁচারও। ক্রিজে থাকা মিরাজ ও হাসানের সামনে প্রথম লক্ষ্য ৪৩ রান পার করা। বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মিরাজই এখন দলের একমাত্র ভরসা। তাঁর ব্যাট কতদূর দলকে টেনে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার।