আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। এর মধ্যে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে আগুন নেভাতে গিয়ে দুজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
ক্রিটের রেথিমনো এলাকায় প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে কয়েকটি গ্রামের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আগুন নেভানোর সময় ওই দুই দমকলকর্মী আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে প্রাণ হারায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসের পারোস ও লেসবস দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের ট্রিফিলিয়া এলাকাতেও নতুন করে দাবানল দেখা দিয়েছে। এদিকে, তুরস্কের মুগলা প্রদেশেও বড় ধরনের আগুন লেগেছে।
এতে ফেথিয়ে থেকে আন্তালিয়া যাওয়ার প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং একটি হাসপাতালের কিছু অংশ খালি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্পেন ও ফ্রান্সে এ গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সেখানে দমকল বাহিনী সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণে আনা দাবানল যেন আবার ছড়িয়ে না পড়ে, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একসঙ্গে কয়েকটি জায়গায় আগুন লাগে এবং খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় আগুনের বিস্তার ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আগামী ১২ ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাপমাত্রা বাড়ছে, বাতাসে আর্দ্রতা কমছে এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্পেনের আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দো এলাকায় ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। এটি এখন পর্যন্ত স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ বছর দেশটিতে মোট ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে থাকা কর্মকর্তা ফ্রান্সিসকো বোলানিওস বলেছেন, রাতে আগুন আর ছড়ায়নি। তবে তাপমাত্রা বাড়লে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আগুনের সীমারেখা নিরাপদ রাখার চেষ্টা চলছে।
আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় তোলেদো, মাদ্রিদ, আভিলা ও কাস্তেয়োন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে আবার নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু মাদ্রিদ অঞ্চলে ২৪ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে পেরেছেন এবং আরও ২০ হাজার মানুষের ওপর জারি থাকা ঘরে থাকার নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
নাভাস দেল রে ও চাপিনেরিয়া শহরের প্রায় ১ হাজার বাসিন্দাও বাড়ি ফিরেছেন। তারা আগে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য লেগানেস শহরে ছিলেন। চাপিনেরিয়ার মেয়র লুসিয়া ময়া বলেছেন, এই আগুনে অনেক মানুষ নিজেদের বাড়ি ও চাকরি হারিয়েছেন। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগবে।
মাদ্রিদ ও কাস্তেয়োনের আগুনে এখনো কোনো প্রাণহানির খবর না থাকলেও, আলমেরিয়া অঞ্চলের লস গাইয়ারদোস দাবানলে গুরুতর দগ্ধ হওয়া এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরন্দ অঞ্চলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাঝেমধ্যে আবার জ্বলে উঠছে। সেখানে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা এবং শুষ্ক বাতাস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। লে বার্প শহরের মেয়র ব্লানদিন সারাজাঁ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের মোট ১৬টি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর আগে আলমেরিয়ার দাবানলে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও স্পেনের নাগরিক ছিলেন।
এদিকে, পর্তুগালের উত্তর-পূর্বের ভিলা রিয়াল জেলাতেও দাবানল জ্বলছে। সেখানে প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সক্রিয় আগুনের রেখা রয়েছে। কাছাকাছি একটি পানি শোধনাগার এবং গ্যাস সংরক্ষণাগারের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশ, ফলে সেখানে গরমের তীব্রতা, পানির সংকট এবং দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি