ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
একসময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ প্রসব ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম ছিল সূর্যের হাসি ক্লিনিক। চার শতাধিক ক্লিনিকের মাধ্যমে পরিচালিত এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখন অনেকটাই সংকুচিত।
ছয় বছরে তাদের ক্লিনিকের সংখ্যা কমে ৩০-এর নিচে নেমে এসেছে। সেবার মানও নেমেছে তলানিতে।
গত কয়েক বছরে একের পর এক ক্লিনিক বন্ধ, সেবা সীমিত হয়ে যাওয়া, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদায়, বিতর্কিত নিয়োগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগে তিন দশক ধরে পরিচালিত ‘সূর্যের হাসি ক্লিনিক’র ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে ক্লিনিকের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে।
রয়েছে আর্থিক অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার অভিযোগও।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় মাতৃমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা এই স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের দ্রুত সংকুচিত হওয়া উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন এলাকায় ক্লিনিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ আগের তুলনায় কমে গেছে।
অন্যদিকে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক (এসএইচএন) কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে পরিচালিত ইউনিটগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে আর্থিকভাবে টেকসই ও কার্যকর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তা, প্রশাসনিক সূত্র এবং প্রতিবেদকের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শায়লা পারভীন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চার শতাধিক ক্লিনিক থেকে ৩০-এর নিচে
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সূর্যের হাসি ক্লিনিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে এই নেটওয়ার্ক। মূল লক্ষ্য ছিল শহর ও গ্রামাঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্পমূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিশুদের টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারি, প্যাথলজি পরীক্ষা, পুষ্টি পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম পরিচিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা মডেলে পরিণত হয়।

২০১৮ সালে ইউএসএআইডির প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হলে ক্লিনিকগুলোকে নতুন কাঠামোয় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ইউনিটগুলো একীভূত করে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক (এসএইচএন) নামে একটি অলাভজনক কোম্পানি গঠন করা হয়। নতুন এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল বাইরে থেকে আসা অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব আয় ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা। সে সময় দেশজুড়ে বিস্তৃত ক্লিনিক, স্যাটেলাইট সেবা, আউটরিচ কর্মসূচি এবং মাতৃস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কারণে এসএইচএনকে দেশের বৃহৎ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই নেটওয়ার্কটির পরিধি দ্রুত ছোট হতে শুরু করে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুই দফায় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ক্লিনিকের সংখ্যা কমিয়ে ১৩৪টিতে আনা হয়। এরপর আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা কারণে ধাপে ধাপে অর্ধেকেরও বেশি ক্লিনিক স্থানীয় ব্যক্তি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বড় পরিসরে ক্লিনিক হস্তান্তরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এসএইচএনের অধীনে পরিচালিত ক্লিনিকের সংখ্যা নেমে এসেছে ৩০-এর নিচে। অথচ গত বছরও এ সংখ্যা ছিল ৬০।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউএসএআইডির অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই নেটওয়ার্কটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। ব্যয় সংকোচন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল কমানো হয়। এর ফলে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মাঠপর্যায়ের কর্মীসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারান।
এদিকে ক্লিনিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্লিনিক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যক্রম চালু থাকলেও আগের মতো সেবার মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এতে স্থানীয় মানুষের আস্থাও কমেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, আর্থিক সংকটের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব, শীর্ষ পর্যায়ের অদক্ষতা এবং পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নেটওয়ার্কটির সংকোচনের অন্যতম কারণ।
এসএইচএনের অধীনে পরিচালিত ক্লিনিকের মধ্যে অ্যাডভান্সড, বেসিক এনভিডি ও বেসিক ক্লিনিক রয়েছে।
অ্যাডভান্সড ক্লিনিকগুলো মূলত ছোট পরিসরে কমিউনিটি হাসপাতালের মতো সেবা দিয়ে থাকে। এখানে বহির্বিভাগের চিকিৎসা, মাতৃ ও নবজাতক সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষা, টিকাদান ও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায়। ক্লিনিকগুলোতে গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবার পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ ও নার্স সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন এবং জটিল রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে বেসিক ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ চিকিৎসা, গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিশুদের টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণ, পুষ্টি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেওয়া হয়।
এসএইচএনের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর অংশ হিসেবে বর্তমানে ৩৬টি ফার্মেসি ও ২৪টি ডিসপেনসারি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ফার্মেসিকে ক্লিনিক ভবনের বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব ফার্মেসিতে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ, গর্ভনিরোধক, শিশুদের ওষুধ, ওআরএস এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়া যেত। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টরা ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শও দিতেন। ডিসপেনসারিগুলো ছোট পরিসরে বহির্বিভাগের চিকিৎসা, ফার্স্ট এইড, সীমিত ল্যাব পরীক্ষা, প্রাথমিক টিকাদান এবং ওষুধ বিতরণের কাজ করে থাকে। অভিযোগ আছে, সরকারি টিকাদান করে উচ্চমূল্যে সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে বর্তমানে চালু থাকা সূর্যের হাসি ক্লিনিকগুলো।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে ইউএসএআইডির সঙ্গে এসএইচএনের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার মতপার্থক্য তৈরি হয়। নেটওয়ার্কের বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময়ের পর সংস্থাটি নতুন করে অর্থায়ন করেনি। ফলে বিদ্যমান ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি কয়েকটি ইউনিট বন্ধ বা বাতিলের প্রক্রিয়াও চলছে। অথচ মোটা অংকের জমানো ফান্ড এসএইচএনের দখলে আছে বলে শোনা যায়।
একজন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একসময় সূর্যের হাসি ক্লিনিক সারা দেশে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবার জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার দাবি, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সমস্যার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার ক্লিনিক স্থানীয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসএইচএনের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেটওয়ার্কটির আয়ের প্রধান উৎস ছিল ক্লিনিক পরিচালনা, ফার্মেসির মেডিসিন বিক্রি, অনুদান এবং সরকারি বিশেষ সহায়তা। ওই অর্থবছরে মাইলস্টোনভিত্তিক অনুদান থেকে প্রায় ১৫ কোটি ৬ লাখ টাকা, ক্লিনিক ও ফার্মেসি কার্যক্রম থেকে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, সরকারের বিশেষ অনুদান হিসেবে ১৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা আয় হয়। তা সত্ত্বেও বছর শেষে প্রায় ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।
স্থানীয়দের কাছে হস্তান্তর করা কয়েকটি ক্লিনিকের সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করে হয়নি। তাদের ভাষ্য, কিছু ক্লিনিকে প্রশাসনিক তদারকি কমে যাওয়ায় আগের মানের স্বাস্থ্যসেবা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে মেহেরপুর সদর উপজেলার একটি ক্লিনিকের (কোড-৩২৫) কথা উল্লেখ করে সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে এটি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, আগের তুলনায় সেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কর্মকর্তা বলেন, অনেক জেলায় সূর্যের হাসির নাম থাকলেও কার্যত স্বাস্থ্যসেবা নেই। ঝিনাইদহে ক্লিনিক গত বছর বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগে স্টাফদের ক্লিনিক থেকে বের করে দিয়ে সব নতুন ইকুইপমেন্ট নিলামে বিক্রি করা হয়। ক্লিনিক বন্ধ করা হলেও এসএইচএন এটিকে ইপিআই সেন্টার হিসেবে নিজেদের রিপোর্টে এখনো উল্লেখ করছে। বেশির ভাগ ক্লিনিকে এখন শুধু বহির্বিভাগ (আউটডোর) চালু আছে। ইনডোর চিকিৎসা, নিরাপদ প্রসব ও সিজারিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে। আগে যেসব ক্লিনিকে পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ প্রসব, সিজারিয়ান, ইনডোর চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো, এখন তার অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে সীমিত পরিসরে ডেলিভারি ও সিজারিয়ান সেবা দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্লিনিকে কেবল বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু আছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও এখন কাউন্সিলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আবার অনেক ক্লিনিকের সরকারি লাইসেন্সও সময়মতো নবায়ন করা হয়নি। কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে ২৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যের হাসির চার শতাধিক ক্লিনিক পরিচালনা করত। এর মধ্যে পিকেএস (পরিবার কল্যাণ সমিতি), স্বনির্ভর বাংলাদেশ, জাতীয় তরুণ সংঘ, কাঞ্চন সমিতি, সিডব্লিউএফডি (CWFD), সপিরেট (SOPIRET) ও এফডিএসআর (FDSR) উল্লেখযোগ্য। এসব এনজিও দীর্ঘদিন সফলভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করেছে। সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকাও ছিল তাদের।
“দীর্ঘদিন ধরে যারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককে একে একে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে এমন অনেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে সিইওর ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল বলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা
সূর্যের হাসি ক্লিনিক
কিন্তু ২০১৯ সালে এসব এনজিওর কাছ থেকে ক্লিনিকগুলোর দায়িত্ব সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০২৩ সালের জুন মাসে ইউএসএআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সব সম্পদ ও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেটওয়ার্কটির হাতে তুলে দেয়।
নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে নিয়োগ ও পদায়ন, পদোন্নতি। প্রতিষ্ঠানের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার অভিযোগ, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শায়লা পারভীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এসময় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নতুন করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া মার্কেটিংয়ের জিএম গাজী তানভীরকে কোনো কাজ না থাকার পরও পদোন্নতি দিয়ে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। জোবেদা নামের একজনকেও চট্টগ্রামের এক ক্লিনিকে বিনা কাজে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককে একে একে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে এমন অনেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে সিইওর ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল বলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।’
জানা যায়, ডিজিএম (রেভিনিউ) নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করে সেখানে ইউসুফ আব্দুল নূর নামের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, তিনি সিইও শায়লা পারভীনের নিকটাত্মীয়।
এ বিষয়ে সিইওর সহকারী (পিএস) মো. সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, ইউসুফ আব্দুল নূর সিইও শায়লা পারভীনের সরাসরি আত্মীয় এবং বর্তমানে ডিজিএম (রেভিনিউ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরঞ্জাম বিক্রি, ক্লিনিক বন্ধ ও চাকরিচ্যুতি
ইউএসএআইডির নীতিমালা অনুযায়ী, সচল বা ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি নেই। কেবল অচল বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদ অপসারণ করা যায়। কিন্তু সেই নীতিমালা অনুসরণ না করে বিভিন্ন ক্লিনিকের ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘সূর্য হাসি’র বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক ক্লিনিক বন্ধ, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, প্যাথলজি ল্যাবের যন্ত্রপাতি, ডায়াথার্মি মেশিন, অটোক্লেভ, সাকার মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করে গাজীপুরে ভাড়া নেওয়া একটি গুদামে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
জানা যায়, গাজীপুরের ওয়্যার হাউজ থেকে এক দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিক থেকেও পৃথকভাবে মোটা অঙ্কের সরঞ্জাম বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা দাবি করেন, কয়েকটি ক্লিনিক বন্ধের আগে সেখানকার ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, প্যাথলজির নানা ইকুইপমেন্ট যেমন– হরমোন এনালাইজার, সেল কাউন্টার, ওটির ডায়াথার্মি মেশিন, সাকার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি গাজীপুরের একটি গুদামে সংরক্ষণ করে পরে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অচল যন্ত্রপাতি বিক্রি করা নিয়মের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সচল যন্ত্রপাতিও বিক্রি হয়েছে, এটাই আমাদের আপত্তি ও পলিসি বিরুদ্ধ কাজ।’
‘সূর্যের হাসি’র খুলনা অঞ্চলের সাবেক ক্লিনিক ম্যানেজার ও জোনাল ম্যানেজার শেখ মো. আব্দুল মালেক বাংলানিউজকে জানান, তিনি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় দুই দশক ‘সূর্যের হাসি’র প্রকল্পে কাজ করেছেন। তিনি ও তার সহকর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েননি; বরং বিভিন্ন কৌশলে তাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঈদের আগমুহূর্তে খুলনা অঞ্চলের ১৬টি শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মীরা অন্তত রমজান মাস পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখার অনুরোধ করলেও তা রাখা হয়নি।
আব্দুল মালেক বলেন, তার তত্ত্বাবধানে থাকা শাখাগুলোতে প্রতি মাসে তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতেন। দুটি ক্লিনিকে মাসে প্রায় ৫০টি স্বাভাবিক প্রসব, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হতো। ক্লিনিকগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনা অঞ্চলের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ল্যাব অ্যানালাইজারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম অতি কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে মানিকতলা শাখার কিছু মালামাল মাত্র ৪৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় এমনকি সিইওর আত্মীয় ইউসুফ আব্দুল নূরকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না। ফলে জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ ও আর্থিক বিষয়ই অগ্রাধিকার পেয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের সাবেক ক্লিনিক ম্যানেজার অজিত সরকার বিপ্লব বলেন, ২০০০ সালে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে যোগ দিয়ে প্রায় ২৪ বছর কাজ করার পর ২০২৪ সালে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দেন।
তিনি জানান, শুরুতে সূর্যের হাসির কার্যক্রম ছিল জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং একটি সাধারণ বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে এর পার্থক্য কমে যায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনায় আসায় তার সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এসব কারণেই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
এদিকে ঝিনাইদহ শাখার সাবেক ক্লিনিক ম্যানেজার মো. দশিরুদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল কোনো পূর্ব নোটিশ বা কারণ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার অধীনে কর্মরত ১৯ জন কর্মীকেও প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং পরে ক্লিনিকটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দশিরুদ্দিনের দাবি, ক্লিনিকের চেয়ার-টেবিলসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ট্রাকে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসব সরঞ্জাম সূর্যের হাসির নিজস্ব নয়, বরং ইউএসএআইডির অর্থায়নে দেওয়া সম্পদ ছিল, যা ক্লিনিকের সেবার জন্য বরাদ্দ ছিল। তার ধারণা, স্থানীয় ব্যক্তি হওয়ায় সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সময় যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে কারণেই তাকে সবার আগে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঝিনাইদহ ক্লিনিকে প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতেন। এছাড়া মাসে ২৫ থেকে ৩০টি স্বাভাবিক ও সিজারিয়ান প্রসব হতো। ক্লিনিকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হারিয়ে গেছে।
অসন্তোষ বেড়েছে কর্মীদের
এছাড়া বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুতি, অসুস্থ কর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বেতন-ভাতা কমানো, পদোন্নতিতে বৈষম্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি, দুইজন জেনারেল ম্যানেজার ও চিফ অব ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেসসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। তাদের কয়েকজনের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় তারা চাপে পড়েছিলেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি সহায়তা কমেছে, এই যুক্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সুবিধা কমানো হয়েছে। কিন্তু প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় কমেনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ইউএসএআইডির সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী সচল চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির সুযোগ নেই। কেবল ব্যবহার অযোগ্য সম্পদ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা যায়।
তবে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি কিংবা অপসারণে নীতিমালা অনুসরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, অফিসের গাড়ির অপব্যবহার, ঘন ঘন সফর, হোটেলে অবস্থান, প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর এবং প্রশাসনিক ব্যয় নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে প্রশ্ন রয়েছে।
এসব ব্যয় নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

‘সূর্যের হাসি’ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শায়লা পারভীন
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে এসেছে। তাই ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যেকোনো সংকটের প্রভাব সরাসরি স্বাস্থ্যসেবার ওপর পড়ে।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সাড়া মেলেনি সিইওর, ‘কিছু অনিয়মের’ অভিযোগ সত্য বললেন ব্যক্তিগত সহকারী
নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ‘সূর্যের হাসি’ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শায়লা পারভীনের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে সিইওর ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদুজ্জামান মোবাইলে বাংলানিউজকে বলেন, কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আছে, এটা সত্য।
ক্লিনিকের সংখ্যা নিয়ে তিনি জানান, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল চার শতাধিক ক্লিনিক নিয়ে। তবে শায়লা পারভীন দায়িত্ব গ্রহণের সময় ক্লিনিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩৪টি। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্লিনিক বন্ধ হতে হতে বর্তমানে কার্যকর ক্লিনিকের সংখ্যা কমে নেমে এসেছে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এক-দুটি এদিক-সেদিক হতে পারে।
সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদুজ্জামান স্বীকার করেন, বিভিন্ন ক্লিনিকের সচল চিকিৎসা সরঞ্জাম নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির নথি তার কাছে সংরক্ষিত আছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, প্যাথলজি ল্যাবের যন্ত্রপাতি, ডায়াথার্মি মেশিন, সাকার মেশিনসহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো গাজীপুরে ভাড়া নেওয়া একটি গুদামে সংরক্ষণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
এসব সিদ্ধান্তে সিইও শায়লা পারভীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বেই এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে।