ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কম জ্বালানিনির্ভর শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার


কম জ্বালানিনির্ভর শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে

ভবিষ্যতে কম জ্বালানিনির্ভর শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

একইসঙ্গে গ্যাসের অভাবে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, সেগুলোর সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, গত ১২ থেকে ১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে। এ সময়ে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম সৃষ্টি হয়েছে।

বরং আগে থেকেই শিল্প-কারখানার মালিকরা আরও বড় হয়েছেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট।

 

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদের প্রবাহ সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা আয় বৈষম্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

 

১৫ থেকে ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশে আয় বৈষম্য অনেক বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইনকাম ডিসপারিটির সূচক শূন্য থেকে এক পর্যন্ত নির্ধারিত হয়। সূচক যত বাড়ে, বৈষম্যও তত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের অবদান কম। বর্তমানে এ খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণশক্তি ধরে রাখতে এমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও সৈয়দপুরে নতুন শিল্পপার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেসব শিল্পপার্কে প্লটের সংকট রয়েছে, সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে নতুন শিল্পপার্ক নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

এবারের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’।

এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন সময়ের দাবি।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উইম্যান অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।


   আরও সংবাদ