ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২৬ ০৮:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
ঢাকা: দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদারে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণের মতো সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না।
তাই দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স পেতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অনুমোদন পাবেন।
এতে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন সম্ভব হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সব ধরনের সেবা অনলাইনে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবেন।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আরও বাড়বে।
বক্তব্যের শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা।
সভায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।