স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২৬ ১৫:১৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
বিশ্বকাপ মানেই সংখ্যার খেলা। কোন দল সবচেয়ে বেশি গোল করেছে? কারা নকআউট পর্বে উঠেছে? মাঠের লড়াইয়ের মতোই বিপণনের জগতেও প্রশ্ন একটাই—কোন ব্র্যান্ড সবচেয়ে বেশি বিক্রি করছে, কার বাজারমূল্য বেশি?
২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে সেই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই ক্রীড়া সামগ্রী জায়ান্ট—নাইকি ও অ্যাডিডাস।
তারকাখচিত বিজ্ঞাপনের লড়াই
নাইকের ‘রিপ দ্য স্ক্রিপ্ট’ বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লেবরন জেমসের মতো তারকাদের।
অন্যদিকে অ্যাডিডাসের ‘ব্যাকইয়ার্ড লেজেন্ডস’ বিজ্ঞাপনে রয়েছেন লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহাম, লিওনেল মেসি এবং জিনেদিন জিদান।
এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে ডেভিড বেকহামকেও।
এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে অনেকটা হলিউডের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের মতো।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডিডাস তাদের বিজ্ঞাপন তৈরিতে প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে। যদিও দুই প্রতিষ্ঠানই সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইউটিউবে এগিয়ে নাইকি
এখন পর্যন্ত ইউটিউব ভিউয়ের হিসেবে এগিয়ে রয়েছে নাইকি। তাদের বিজ্ঞাপনটি ৭ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে, যেখানে অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনের ভিউ প্রায় ৭০ লাখ।
নাইকি গ্লোবাল ফুটবলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার কামিলো আন্দ্রাদে বলেন, ডিজিটাল যুগে গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাই শুধু একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের ওপর নির্ভর না করে তারা এমন একটি ‘ফুটবল ইউনিভার্স’ তৈরি করতে চেয়েছেন, যা অনলাইন ও বাস্তব উভয় জগতেই বেঁচে থাকবে।
অন্যদিকে অ্যাডিডাসের মার্কেটিং কমিউনিকেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্লোরিয়ান আল্ট বলেন, ‘ব্যাকইয়ার্ড লেজেন্ডস’ এমন এক অভিজ্ঞতার গল্প, যা ফুটবল খেলা প্রায় সব মানুষের কাছেই পরিচিত—স্থানীয় মাঠ, অপ্রতিরোধ্য একটি দল এবং কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া স্মৃতি।
নিউইয়র্কে অ্যাডিডাসের দাপট
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় নিউইয়র্কে প্রাথমিকভাবে অ্যাডিডাসকেই এগিয়ে দেখা যাচ্ছে।
ম্যানহাটনের সোহো এলাকায় নাইকি ও অ্যাডিডাসের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও অ্যাডিডাসের দোকানজুড়ে বিশ্বকাপের আবহ স্পষ্ট। ফুটবল জার্সি ও টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট পণ্য সেখানে প্রধান আকর্ষণ।
অন্যদিকে নাইকির স্টোরে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সদ্য এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিউইয়র্ক নিকস।
শুধু স্টোর নয়, ম্যানহাটনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট প্রচারণা, পপ-আপ কার্যক্রম এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাডিডাসের উপস্থিতি বেশি দৃশ্যমান।
ফুটবল থেকে ফ্যাশন
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাডিডাস ফুটবল সংস্কৃতিকে মাঠের বাইরে ফ্যাশনের জগতেও সফলভাবে নিয়ে যেতে পেরেছে।
বিশেষ করে জাপান ও কুরাসাওয়ের অ্যাওয়ে জার্সিগুলো তরুণদের কাছে পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে ফুটবল জার্সি এখন শুধু খেলার পোশাক নয়, বরং দৈনন্দিন ফ্যাশনের অংশও।
বিশ্বকাপের কিট যুদ্ধে কারা এগিয়ে?
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ১৪টি দলের জার্সি সরবরাহ করছে অ্যাডিডাস। নাইকির অধীনে রয়েছে ১২টি দল। আর পুমা রয়েছে ১১টি দলের সঙ্গে।
বিশ্লেষক জেমস কার্কহামের মতে, আধুনিক ফুটবল সমর্থকরা কেবল নিজেদের দেশ নয়, বরং একাধিক দেশ এবং প্রিয় খেলোয়াড়দের অনুসরণ করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জার্সি বিক্রিতে।
বুট ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের বাজার
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের বুট চুক্তিও বিশাল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
তথ্য ও আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে নাইকির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মূল্য বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
বিশ্বকাপের বিকল্প কি আছে?
অ্যাডিডাসের ফ্লোরিয়ান আল্টের ভাষায়, ফিফা বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন। তাই একটি ক্রীড়া ব্র্যান্ড হিসেবে এখানে সর্বোচ্চ পারফর্ম করাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাইকের কামিলো আন্দ্রাদেও একই সুরে বলেন, ‘বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতা ফুটবলের মতো আর কোনো খেলাধুলার নেই। বিশ্বকাপ শুরু হলে যেন পুরো পৃথিবী কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়ায়।’
তবে মাঠের মতোই ব্যবসার প্রতিযোগিতাতেও শেষ কথা বলবে সংখ্যা। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বোঝা যাবে—এই বৈশ্বিক ব্র্যান্ড যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে নাইকি, নাকি অ্যাডিডাস।
তথ্যসূত্র: বিবিসি