ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
নানা ধরনের চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ রোগী ও তাদের স্বজনদের নিজেদের অর্থে কিনে আনতে হচ্ছে।
সম্প্রতি হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের হিমাগার বিকল হয়ে যাওয়ায় সেখানে রাখা অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ পচে পোকা ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত রোগী ছাড়াও রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা, সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতসহ নানা ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।
প্রতিদিন এ বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত রোগী। এসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এই বিভাগে।
হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ হলেও নিয়মিতভাবে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) হাসপাতালের ১১৫ নম্বর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, গজ, ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার ব্যান্ডেজের তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া আরও কিছু সামগ্রী সংকট রয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে চিকিৎসাসামগ্রী কিনে আনতে হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতস্থান পরিষ্কারের অ্যান্টিসেপটিক তরল ও ড্রেসিং সামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে। তবে সংকটের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের কর্মচারী রামু দাস বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মর্গের ৪০ মরদেহ সংরক্ষণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগারটি বিকল ছিল। ফলে সেখানে রাখা অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ পচে যায় এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত হিমাগারটি মেরামত করে।
তিনি জানান, বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, ঢাকা রেলওয়ে থানা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা নবজাতকসহ ছয়টি মরদেহ পচে যাওয়ার পরও মেরামতের পর হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে এসব মরদেহ লাশকাটা ঘরে এসি চালিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
এছাড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর হিমঘরটি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় ১৫টি মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে হস্তান্তর করা হয়। সকালের দিকে আরও ছয়টি মরদেহ দাফনের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
ট্রেন দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন ঘটনায় মৃত্যু হওয়া এসব মরদেহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের নির্দেশে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অর্থবছরের শেষ দিকে সাময়িক কিছু সংকট দেখা দিলেও তা কাটিয়ে ওঠা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই সরবরাহ পৌঁছে যাবে।
জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যার তুলনায় দেড় গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আহত হয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে প্লাস্টার ব্যান্ডেজ, ক্ষতস্থানে সেলাইয়ের সুতা, ড্রেসিং সামগ্রী ও কিছু অ্যান্টিসেপটিক দ্রব্য সাময়িক সংকটে পড়েছে। তবে ওষুধের বড় কোনো সংকট নেই। ব্যথানাশক ও গ্যাস্ট্রিকের ইনজেকশন পর্যাপ্ত রয়েছে। হাসপাতালে যেসব ওষুধ বা সামগ্রী নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো রোগীদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলা হচ্ছে।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে কিছু সরঞ্জাম সংকট তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের অন্যান্য খাতের বরাদ্দের টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করা হচ্ছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।