ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা আ.লীগের

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ ২০:২৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা আ.লীগের

মাঠের রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে এক সময় কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে থাকা শরিক দলগুলো। বিশেষ করে এই জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদসহ আরও দুটি দল।

এরই মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে শুরু করেছে দলগুলো।

 

১৪ দলের নেতারা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় তাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা থাকলেও সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কর্মসূচি দেবে না তারা।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের অন্য দলগুলোর ওপরও রাজনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে।

আত্মগোপনে চলে যান দলগুলোর নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার করা হয় ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ দুই নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে।

তাদের নামে হত্যার অভিযোগসহ কয়েকটি মামলা দেওয়া হয়।

 

১৪ দলীয় জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়াও দল রয়েছে মোট ১১টি। এ দলগুলো হলো, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), তরীকত ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও বাসদ (রেজাউর রশিদ)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই দলগুলো অংশ নেয়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাদেশ জারি করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের মাধ্যমে আইন করে আওয়ামী লীগের ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। তবে এই জোটের অন্য দলগুলোর ওপর এ ধরনের কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই।

১৪ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। গত দেড় বছরের বেশি সময় তারা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসতে পারেননি।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এ জোটের নেতারা।

রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৪ দলীয় জোটের দুই-একটি দল কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতির মাঠে আসার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। ইতোমধ্যে এ দল দুটি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। প্রথমে এ দুটি কৃষক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, যুব সংগঠনসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে। এরপর গত ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সমাবেশ ও র‌্যালি করে দল দুটি।

গত ২৩ মে মিরপুরের শিশু রামিশা হত্যাসহ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শাস্তির দাবিতে জাসদ রাজধানীর গুলিস্তান জিপিওতে মানববন্ধন, সমাবেশ এবং মিছিল করেছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা জানান, গত কিছুদিন ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বসছেন। কেন্দ্রীয় অফিস নিয়মিত খোলা হচ্ছে। তারা দিবসভিত্তিক কিছু কর্মসূচিও পালন করা শুরু করেছেন। আগামীতে আরও কিছু কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও তারা জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কর্মসূচি দেবেন না। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট, নাগরিক সমস্যা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদবিরোধীসহ সমসাময়িক ইস্যু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মুক্তি দাবিতে তাদের কর্মসূচি থাকবে।

এ জোটের আরেক শরিক দল জাসদের নেতারা জানান, তাদের নেতাকর্মীরাও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বসছেন। এখন পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক মনে করছেন তারা।

জাসদ নেতারা জানান, বিভিন্ন ইস্যুতে দু-একটি করে কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে সরকারবিরোধী কর্মসূচির মতো কিছু থাকবে না। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুসহ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি থাকবে।

১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল ন্যাপ এবং গণতন্ত্রী পার্টিও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নামার চিন্তাভাবনা করছে বলে দলদুটোর সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন বাংলানিউজকে বলেন, মে দিবসে পার্টির ব্যানারে কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীতে পার্টির কিছু কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এখন আমরা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো পালন করতে পারবো।

মাঠে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাপের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এখন আর আগের মতো পরিস্থিতি নেই। এখন পরিস্থিতি ভালো বলে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, আমরা আগামীতে দলের কিছু কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। আমরা গণমানুষের সমস্যা নিয়ে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবো। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


   আরও সংবাদ