ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দাম কমে আমের বাজার এলোমেলো

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ ১৩:০৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


দাম কমে আমের বাজার এলোমেলো

ঈদের ছুটির মন্দা প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর আমের বাজারে। এতে গুটি আমের দাম কমে মণপ্রতি ৭০০ টাকায় নেমে এসেছে।

 

গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে হিমসাগরের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে-মণপ্রতি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পরিবহন ও ক্রেতাসংকটের কারণে বাজার কার্যত এলোমেলো হয়ে গেছে।

 

সোমবার রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা ভ্যানে করে আমের ক্যারেট নিয়ে আসছেন।

 

 

আড়তদারেরা ভ্যানের ওপর থেকেই আম কিনছেন। নতুন ভ্যান এলেই ব্যবসায়ীরা গিয়ে আম দেখে দাম বলছেন।

 

ফলে চাষিদেরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে।

হাটে গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, যা গত ২২ মে বাজারে ওঠার সময় ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আম তখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা নেমে আসে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

 

২৫ মে থেকে বাজারে উঠছে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আম। বর্তমানে রানিপছন্দ খুবই সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

 

৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।

 

পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এক মণ গুটি আম এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে এখন আর লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।

 

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতাসংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন সেবা সীমিত থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আম পাঠানোও ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে।

 

ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। কোরবানির ঈদের কারণে বাজারে চাহিদা কমে গেছে।

 

একই ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী মো. রনি। তিনি বলেন, ঈদের সময় মানুষ মাংস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমের চাহিদা কমে গেছে। পরিবহন সমস্যাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমচাষি আজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, এই দামে আম বিক্রি মানে সরাসরি লোকসান।

 

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলে পরিবহন ও বাজার স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

 

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কৃষি বিভাগ।

 

ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পেকে গেলে সারা বছরই কাটিমন ও বারি আম-১১ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বেশির ভাগ মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। এতে দাম নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। দাম বর্তমানে যেটা থাকা দরকার, বাজারে সেটাই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


   আরও সংবাদ