ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাজেটে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬ ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


বাজেটে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি

জাতীয় বাজেটে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনাসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

তারা বলছেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করতে হবে।

বিশেষ করে জেলা বাজেট, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং জনঅংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘জনবাজেট সংসদ ২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী সংলাপে এমন মতামত উঠে আসে।

 
ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্ট আয়োজিত এ সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সংকট মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ উন্নয়ন ব্যয়ের সুযোগ সীমিত করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

 

তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাজেট কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীয় হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বরাদ্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে উন্মুক্ত বাজেট সভা, সামাজিক নিরীক্ষা ও নাগরিক অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আখতার, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ড. জাহাঙ্গীর আলম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম, বিকেএমইএর পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া, ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইয়ুথ লিড নাজমুল আহসান।

এ ছাড়া অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কো-অর্ডিনেটর লিডি নাকপিল।

অনুষ্ঠানের শেষে ‘পিপলস বাজেট ডিক্লারেশন ২০২৬’ গ্রহণ করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেট ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজেট প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


   আরও সংবাদ