ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে ওয়াশিংটনে সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬ ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে ওয়াশিংটনে সংশয়

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ইরানি সামরিক বিমান অবস্থান করছে এমন খবরের প্রেক্ষাপটে তিনি এই সংশয় প্রকাশ করেন।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির একটি শুনানিতে গ্রাহাম দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে এই বিষয়ে চেপে ধরেন। তিনি জানতে চান, ইরানি সামরিক সরঞ্জাম রক্ষায় পাকিস্তান যদি তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে তারা কীভাবে একটি ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ হতে পারে।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “আমি পাকিস্তানকে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করি না। যদি তারা সত্যিই ইরানি সামরিক সম্পদ রক্ষা করার জন্য নিজেদের ঘাঁটিতে তাদের বিমান পার্ক করার সুযোগ দেয়, তবে আমাদের উচিত আলোচনার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে বের করা।

 

বিতর্কের সূত্রপাত ও মার্কিন অবস্থান
সম্প্রতি সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ‘নূর খান’ বেসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা পেতেই ইরান তাদের সামরিক সম্পদ পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়েছে।

 

প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্বার্থে এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর জবাবে গ্রাহাম ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এ কারণেই এই ছাইপাশ আলোচনা কোনো দিকেই এগোচ্ছে না’। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে গ্রাহাম বলেছিলেন, প্রতিবেদনটি সত্য হলে ওয়াশিংটনের উচিত পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করা।

পাকিস্তানের তীব্র প্রতিবাদ
পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরানি বিমান পাকিস্তানে আসার বিষয়টি শুধুমাত্র কূটনৈতিক এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার অংশ ছিল। আলোচনা প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই তারা সেখানে অবস্থান করছিল।

ইসলামাবাদ জানায়, এই বিমানগুলোর সঙ্গে কোনো সামরিক পরিকল্পনা বা সম্পদ রক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান নিজেকে একটি ‘নিরপেক্ষ, গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল’ দেশ হিসেবে দাবি করে এই অভিযোগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর ও চাঞ্চল্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরেও অস্থিরতা বাড়ছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মতে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ট্রাম্পের কঠোর বার্তাগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিচ্ছে না। এমনকি তারা ইরানের অবস্থানকে যতটা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন নয় বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা এবং ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে অত্যন্ত বিরক্ত। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধের মেঘ ও কূটনৈতিক সংকট
বর্তমান পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। পেন্টাগনের একটি অংশ মনে করে, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলা (Targeted Strikes) চালানো প্রয়োজন। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ এখনও কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে।

একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে এটিই তাদের জন্য শেষ সুযোগ, কিন্তু ইরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত মাসে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যখন ১৪ দফা পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব দেয় (যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি ছিল), তখন থেকেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান আর বেশিদিন হাসতে পারবে না এবং তাদের জবাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এখন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


   আরও সংবাদ