ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ত্রিমুখী সংকটে অর্থনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


ত্রিমুখী সংকটে অর্থনীতি

অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন এই তিনমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তবে সরকার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে আবারও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

সোমবার (১১ মে) রাতে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তার আয়োজিত ‘সোনার বাংলা’ শীর্ষক নীতি-আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেশি পেছনের দিকে যেতে চাচ্ছি না। পেছনের বিষয় নিয়ে খুব বেশি কমপ্লেন করে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।

কারণ আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তবে আমরা কোথা থেকে শুরু করেছি, সেটা বলা দরকার।

 

তিনি বলেন, প্রথমত আমরা একটি বিগত রেজিমের উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে গত ১৮-১৯-২০ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার নানা সমস্যা। যত দিন যাচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা নতুন নতুন সমস্যাও দেখতে পাচ্ছি। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি একটি ত্রিমুখী সংকট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের মধ্যেই সামনে চলে এসেছে নতুন বাজেট প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ। সীমিত সময়ের মধ্যে সম্পদের ঘাটতি নিয়ে বাজেট তৈরি করতে হচ্ছে সরকারকে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও এখন অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক (রুল-বেসড) ইকোনমিক অর্ডার যেটা ছিল, সেটাও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। যারা এতদিন মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলেছে, তারাই আবার প্রটেকশনিস্ট নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। ট্যারিফ ওয়াল আবার সামনে চলে আসছে।

তার ভাষায়, যে ট্যারিফ ওয়াল ভাঙার জন্য এত বছর বিশ্ব লড়াই করেছে, বিশ্ব অর্থনীতিকে একীভূত করার চেষ্টা করেছে, এখন আবার আমরা যেন শুরুর অবস্থায় ফিরে যাওয়া (স্কয়ার ওয়ান) ফিরে যাচ্ছি।

তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি হতাশ নন বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা থেমে থাকতে পারব না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এখানে যারা আছেন— অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, একাডেমিক ব্যক্তিত্ব— আমরা সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় অর্থনৈতিকভাবে খুব ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিল। বিশ্বেও আমাদের অবস্থান ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছিল। সাময়িকভাবে কিছু পতন ঘটেছে, এটা সত্যি। কিন্তু আমি হতাশ নই। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগে তা ৭ শতাংশ ছিল।

তিনি বলেন, এটা একটি বিশাল পতন। ইনফ্লেশন প্রায় ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। আমাদের সরকারের শেষ সময়ে এটা ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একইসঙ্গে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, বেসরকারি বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতের ঋণ গ্রহণ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছু মিলে পুরো অর্থনৈতিক প্রবণতা নিম্নমুখী। এই ট্রেন্ডকে প্রথমে থামাতে হবে। এরপর পুনরুদ্ধার করে আবারও প্রবৃদ্ধিকে আগের জায়গায় এবং তার চেয়েও ওপরে নিতে হবে।

এ জন্য সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রিসোর্স মোবিলাইজেশন বা সম্পদ আহরণ। কিন্তু বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, একসময় এটা ১০-১১ শতাংশ ছিল। এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নিচের দেশগুলোর মধ্যে পড়ে গেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় তো সবচেয়ে নিচে।


   আরও সংবাদ