আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য তাকে সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন, আর ৭০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সোমবার স্টারমার বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলায় দেশকে ঠেলে দিলে জনগণ লেবার পার্টিকে ‘কখনোই ক্ষমা করবে না’। তিনি আরও বলেন, দল ও দলের বাইরে থাকা সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন তিনি।
তবে গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্টারমারকে বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ নির্বাচনী পরাজয়ের পর তার উচিত হবে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা।
আরও অন্তত দুজন মন্ত্রী জন হিলি ও ডেভিড ল্যামি স্টারমারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কীভাবে ‘দায়িত্বশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল’ উপায়ে পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
তবে রিচার্ড হারমার ও স্টিভ রিডসহ কয়েকজন মন্ত্রী তাকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এক মন্ত্রী বলেন, ‘কিয়ার শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের কথা শুনেছেন।
তবে এরপর কী হবে এবং দল ও দেশের জন্য কী ভালো, তা নিয়ে ভেতরে মতভেদ আছে। আগামীকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
প্রধান হুইপ জনাথন রেনল্ডস দিনভর ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের মনোভাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা
স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা এমপিদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরাও রয়েছেন। তারা দ্রুত সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন, যা অনেকের কাছে পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে হয়েছে। যদিও স্ট্রিটিংয়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেছেন, ‘তিনি এখনই পুরো বাড়ি ভেঙে ফেলতে চান না।’
ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থকরাও স্টারমারের পদত্যাগ চেয়ে চিঠি প্রকাশ করেছেন। লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) কিছু সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে বার্নহামের সংসদে ফেরার পথ খুলে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বার্নহামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তাকে সংসদে ফেরার সুযোগ না দেওয়া ভুল ছিল।
তবে রেইনারের নিজের নেতৃত্বের সম্ভাবনাও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে বার্নহামের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, রেইনার হয়তো আর নিজে নেতৃত্বে যেতে আগ্রহী নন, বরং একটি টিমের অংশ হতে চান। যদিও বার্নহাম না পারলে তাকেই প্রার্থী হতে হতে পারে।
এমপিদের বিদ্রোহ
সোমবার ৭০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে বলেন, স্টারমার আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা লেবারের ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের প্রায় ২৫ শতাংশ।
সোমবারের বক্তব্যে স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছি না। কনজারভেটিভরা যেমন বারবার দেশকে বিশৃঙ্খলায় ফেলেছে, আমি তা করব না। একটি লেবার সরকার যদি আবার এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, দেশ আমাদের কখনো ক্ষমা করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি মানুষ ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশ। রাজনীতি নিয়ে হতাশ। কেউ কেউ আমাকে নিয়েও হতাশ। আমি জানি আমার সমালোচক আছে, আর আমি তাদের ভুল প্রমাণ করব।’
জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও এক সপ্তাহ আগে স্টারমারকে সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
একের পর এক পদত্যাগ
সোমবার চারজন জুনিয়র ফ্রন্টবেঞ্চ সদস্য পদত্যাগ করেন এবং স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর দাবি জানান। তারা হলেন—জো মরিস, টম রুটল্যান্ড, নওশাবাহ খান ও মেলানি ওয়ার্ড।
এরপর দ্রুত নতুন পিপিএস নিয়োগ দেয় ডাউনিং স্ট্রিট।
স্টারমারের পদত্যাগ দাবিকারীদের মধ্যে ২০২৪ সালে নির্বাচিত একাধিক নতুন এমপিও রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ডেভিড স্মিথ, লুক মেয়ার, মার্কাস ক্যাম্পবেল-সেভার্স, টনি ভন, ফ্রেড থমাস ও সারাহ স্মিথ। সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ম্যাককিনেল ও জাস্টিন ম্যাডারসও এ দলে যোগ দিয়েছেন।
তবে দলের ভেতরে সবাই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজেরই লাভ হবে।
লেবার এমপিদের এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এমপি নাতাশা আয়রনস লিখেছেন, ‘নাইজেল ফারাজের চাপে নেতা বদলালে আমরা আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। যারা ভাবছে পারব, তাদের বাস্তবতায় ফিরতে হবে।’
আরেক এমপি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে, এদের প্রায় সবাই ব্যর্থ। অ্যান্ডির কৌশল বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অ্যাঞ্জেলা পিছিয়ে গেছে। এডের কোনো পথ নেই। ওয়েস উধাও। ক্যাথরিন ওয়েস্ট কী করছেন তাও বোঝা যাচ্ছে না। কীভাবে আমরা এই অবস্থায় এলাম, বুঝতে পারছি না।’