ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা জানিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রোববার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে এক কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিয়ে করা প্রশ্নে তিনি বলেন, দেখুন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেব। কারিকুলাম-সিলেবাস আমাদের সেট করতে হবে।
কিন্তু যখন আমি দেখি পরীক্ষা হয়ে গেল ২০২৫-এ জুনের শেষের দিকে বা জুলাইয়ে। সেই রেজাল্ট হলো অক্টোবরের মাঝামাঝি।
আর জানুয়ারিতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ভর্তি হওয়ার জন্য ডাকলেন। গতকাল দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি হওয়ার জন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন।
ডু উই হ্যাব এনি কো-অর্ডিনেশন?
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের কথা বলছি, ২০ লাখ এসএসসি-সমমানের পরীক্ষার্থী, ২০ লাখ এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষার্থী প্রত্যেকের জীবন থেকে শুধু এডমিশন টেস্ট, আউট অব দ্য সিলেবাস। সিলেবাস শেষ করার পরও আমরা জাতির কাছ থেকে ২০ প্লাস ২০, ৪০ লাখ বছর আমাদের সিস্টেমের কারণে চলে যাচ্ছে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের কারণে চলে যাচ্ছে। আমরা কি একবারও খেয়াল করে দেখেছি? নো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি ইউজিসিকে অনুরোধ করব— বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বসে আপনি ইউনিফরমলি, কখন এই ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করাবেন এবং কখন তারা ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে বেরিয়ে আসবে…। এই সিংক্রোনাইজ করার দায়িত্ব কি আমাদের সকলের নয়? নিশ্চয়ই আমাদের সকলের। এই বিষয়টি কিন্তু আমাদের দেখতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কারিকুলাম-সিলেবাস কখন শেষ করব এবং কখন দেব, সেগুলো সাংবাদিকদের বলব। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই আমাদের নিজস্ব এরিয়া থেকে কীভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা যায়, কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, এই ভাবনাগুলো কি আমাদের সকলের মাঝে আছে, না নেই।
কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে কথা বলেন।
এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে কিছু বলবেন— জানতে চাইলে এহছানুল হক মিলন বলেন, এইখানে তো আমি বক্তব্য দিয়েছি। এখানে স্টেকহোল্ডার তো শুধু বোর্ড নয়, এখানে ইউনিভার্সিটিগুলো রয়েছে এবং ইউনিভার্সিটি ও বোর্ড মিলে সমন্বিতভাবে এই ইন্টারমিডিয়েটের পরীক্ষার্থীদের তাদের যে একটা বিরাট গ্যাপ, এই গ্যাপটাকে, সেশন জট যেটা হচ্ছে, সেটাকে আমাদের আস্তে আস্তে পূরণ করতেই হবে।
তিনি বলেন, আপাতত এনসিটিবির দায়িত্ব সিলেবাস-কারিকুলামগুলো সঠিকভাবে দেওয়া, দুই বছরের কোর্স দুই বছরে দেওয়া। সেইসঙ্গে ইউনিভার্সিটিগুলো বসে কীভাবে আমরা তাদের পাস করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিশন দিতে পারি, সেই ব্যবস্থাগুলো করা, সেটা আমাদের করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি ডিসেম্বর মাস হচ্ছে পরীক্ষার মাস, সেই সময় সব পরীক্ষাগুলো শেষ হতে হবে এবং জানুয়ারি থেকে নতুন ক্লাস শুরু হতে হবে, যেন কোনো ওয়েটিং টাইম না থাকে। এভাবে আমরা প্ল্যান করছি, এভাবে আমরা ডিজাইন করছি এবং সেভাবে কারিকুলাম-সিলেবাস এবং ক্লাসগুলো নেওয়া, সমাপ্ত করা সবকিছু সমন্বিতভাবে করতে হবে, এটাই আমাদের পরিকল্পনা।
ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মহিদুস সামাদ খান। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি সেলের পরিচালকরা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।