আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির।
একাধিক ইরানি সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।।
এই সফরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনার বার্তা আদান-প্রদান এবং সমন্বয়ের উদ্দেশ্যেই এই সফর।
পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার একটি পর্ব কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত আছে বলে ইরানি পক্ষের দাবি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, আলোচনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের মাধ্যমে একাধিক বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইসলামাবাদে নতুন দফার আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’, যদিও এর মাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার কোনো চাপ বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে সীমিত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা খুব শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে। তিনি পাকিস্তানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।
একইসঙ্গে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘প্রায় শেষের দিকে’ রয়েছে।
অন্য একটি প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, ট্রাম্প মনে করছেন পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতার কারণে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।