ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
একাত্তরে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কোনো অস্তিত্ব ছিল না উল্লেখ করে দলটির ‘একাত্তর’ দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি এখন গর্ব করে বলে একাত্তরও তাদের, নব্বইও তাদের, চব্বিশও তাদের— সবকিছু তাদের; আর কারো কিছু নেই।
একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই হয়নি; একাত্তর তাদের হয় কীভাবে?
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে না পারলে এক মিনিটও সংসদে থাকব না’সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, কথা বলতে পারব, ততদিন সংসদে থাকব। লড়তে না পারলে, কথা বলতে না পারলে এক মিনিটও থাকব না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকার বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাতিল করছে। এর প্রতিবাদে জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন, আমরা অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু একক ক্রেডিট যদি এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, তাহলে বাকি যোদ্ধাদের পজিশন কোথায় থাকে? আওয়ামী লীগও যুদ্ধকে কুক্ষিগত করেছিল এবং তারা জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করেছিল। আমরা সেই নোংরা রাজনীতি আর দেখতে চাই না।
সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত আমীর বলেন, আগামীতে চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই সনদকে সরকার উপেক্ষা করছে। সংবিধান যদি জনগণের জন্য হয়, তবে জনগণের ম্যান্ডেট মেনেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। তিনি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি সরকার। বিএনপি জুলাইকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তারা কোনো আন্দোলনে ছিল না, কেবল আন্দোলনের ফসল ভোগ করছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের সব কালো আইন বহাল রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি ঘোষণা দেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অচিরেই রাজপথে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ১০টিতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তারা গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে প্রমাণ করেছে তারা আওয়ামী লীগের মতোই একনায়কতন্ত্র চায়। বিরোধী দলের জন্য কবর খুঁড়তে যাবেন না, সেই কবরে আপনাদেরই আগে ঢুকতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আবদুল্লাল আল মামুন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলিফ ও মেহেরুন নেছার বাবাসহ বেশ কয়েকজন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মেধা ও কোটা পদ্ধতি উপেক্ষা করে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছে এবং জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান করছে। দাবি আদায় না হলে পরিবারসহ রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম ও মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ পরিচালনায় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।